বিদেশের মাটিতে শেষ মোসাদের ‘গেম চেঞ্জার’ এজেন্ট! ইরান-যুদ্ধের ব্লু-প্রিন্ট কি এখন বিশ বাঁও জলে?

ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যখন যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজেদের অন্যতম সেরা ‘অস্ত্র’ হারাল ইজরায়েল। তেল আভিভ সরকারিভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ঘুঁটি সাজানোর নেপথ্যে থাকা তাঁদের এক শীর্ষ মোসাদ এজেন্টের মৃত্যু হয়েছে। বিদেশের মাটিতে একটি অতি গোপনীয় মিশনে থাকাকালীন এই ঘটনাটি ঘটেছে, যা ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মহলে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।

কে এই এজেন্ট? কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন?

নিরাপত্তার খাতিরে মোসাদের ওই এজেন্টের নাম গোপন রাখা হলেও, তাঁকে ইজরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগের ‘গেম চেঞ্জার’ বলে মনে করা হতো। জানা গিয়েছে:

  • ইরান অভিযানের রূপকার: সম্প্রতি ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে যে সব ড্রোন হামলা বা সাইবার অ্যাটাক হয়েছে, তার নেপথ্যে মস্তিষ্ক ছিল এই এজেন্টেরই।

  • গোপন নেটওয়ার্ক: ইরানের অভ্যন্তরে ইজরায়েলের যে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেটি পরিচালনা করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।

  • যুদ্ধের ব্লু-প্রিন্ট: আগামী দিনে ইরানকে কীভাবে কোণঠাসা করা হবে, সেই রণকৌশল সাজানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই।

কীভাবে হলো মৃত্যু?

ইজরায়েল সংবাদমাধ্যম ও সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের জন্য তিনি বিদেশ-বিভুঁইয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য:

  • দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র: ইজরায়েল একে ‘অপারেশনাল ট্র্যাজেডি’ বলে ইঙ্গিত দিলেও, এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

  • রহস্যমৃত্যু: বিদেশের একটি হোটেলে বা নির্জন স্থানে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। তবে ঠিক কোন দেশে এবং কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে মোসাদ।

যুদ্ধের মোড় কি ঘুরে যাবে?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এজেন্টের মৃত্যু ইজরায়েলের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ, ইরানের সেনাটিকি চেনার মতো অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল যা অন্যদের থেকে আলাদা। তবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ব্যক্তিগত ক্ষতি ইজরায়েলের ইরান-নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং পালটা আঘাত হানতে তৈরি মোসাদ।

এই মোসাদ এজেন্টের রহস্যমৃত্যু কি কোনো বড়সড় পালটা চালের ইঙ্গিত? নাকি এটি স্রেফ এক দুর্ঘটনা? বিশ্ব রাজনীতি এখন এই উত্তরের অপেক্ষায়।