ভোটের ময়দানে এবার কলম যোদ্ধারাই! অধ্যাপকদের নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে শিলমোহর দিল হাইকোর্ট

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় স্বস্তি পেল নির্বাচন কমিশন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছিল, তাতে আইনি সিলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এর ফলে শিক্ষা মহলের একাংশের আপত্তি থাকলেও, ভোটের কাজে অধ্যাপকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ পরিষ্কার হয়ে গেল।
একক বেঞ্চ বনাম ডিভিশন বেঞ্চ: আইনি লড়াই
এর আগে জাস্টিস কৃষ্ণ রাও-এর একক বেঞ্চ অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিরোধিতা করে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছিল, কমিশনের ২০১০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী অধ্যাপকদের এই ধরণের প্রশাসনিক কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘অনিবার্য কারণ’ (Unavoidable Circumstances) দেখাতে হবে। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে কমিশন জানায়:
-
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার দক্ষ প্রিসাইডিং অফিসার প্রয়োজন।
-
অধ্যাপকরা উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হওয়ায় বুথের জটিল পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাঁরাই সবথেকে যোগ্য।
-
নির্বাচনের মতো জাতীয় কর্মযজ্ঞে বিশেষ কোনো পেশাকে ছাড় দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
আদালতের রায় ও কমিশনের ক্ষমতা
ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা কমিশনের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে কোনো সরকারি বা সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে। আদালত মনে করে, গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়া প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক কর্তব্য।
কেন এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক?
অধ্যাপক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অধ্যাপকরা গ্রুপ-এ পদমর্যাদার অফিসার। তাঁদের প্রিসাইডিং অফিসারের মতো ফিল্ড ডিউটিতে নিয়োগ করা অনেক সময় তাঁদের বেতনক্রম ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। তবে আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পর সেই বিতর্ক আপাতত স্তিমিত। কমিশন এখন থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের বুথে বুথে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।