জমি জালিয়াতির ‘কিঙ্গপিন’ জয় কামদার! ‘সোনা পাপ্পু’র ডেরায় কোটি কোটি টাকার খেলা; ইডির তথ্যে তোলপাড় রাজ্য

দক্ষিণ কলকাতার জমি জালিয়াতি সাম্রাজ্যের অন্ধকার দিকটি এবার প্রকাশ্যে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং পলাতক দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র সিন্ডিকেট কীভাবে একের পর এক সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করত, তার চাঞ্চল্যকর তথ্য এখন তদন্তকারীদের হাতে। ইডির দাবি, এই চক্রটি স্রেফ জালিয়াতি নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত ‘ল্যান্ড মাফিয়া’ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল।

কীভাবে চলত জবরদখল? ফাঁস হলো ‘মডাস অপারেন্ডি’

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে জয় কামদারের সিন্ডিকেটের কাজ করার ভয়াবহ পদ্ধতি:

  • টার্গেট সিলেকশন: মূলত বিতর্কিত জমি, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই চলছে এমন সম্পত্তি বা অসহায় বয়স্ক মানুষের জমিকে টার্গেট করত এই চক্র।

  • নথি জালিয়াতি: সরকারি দপ্তরের যোগসাজশে জমির পুরনো দলিল বদলে ফেলে তৈরি করা হতো জাল কাগজপত্র। অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির নামেও সই জাল করে জমি হাতবদল দেখানো হতো।

  • পেশি শক্তির ব্যবহার: নথি জাল করার পর সোনা পাপ্পুর বাহিনীর কাজ ছিল ওই জমিতে রাতারাতি পাঁচিল তুলে দেওয়া বা জবরদখল করা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে ‘সিন্ডিকেট’ স্টাইলে হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হতো।

প্রভাবশালী যোগ ও কোটি কোটি টাকার খেলা

তদন্তকারীদের মতে, জয় কামদার শুধুমাত্র একজন প্রোমোটার নন, তিনি ছিলেন এই চক্রের ‘কিঙ্গপিন’ বা মধ্যমণি। জালিয়াতি করা জমিগুলোতে বিশাল বিশাল আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হতো। সেই ফ্ল্যাট বিক্রির কালো টাকা ফের বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সাদা করা হতো বলে সন্দেহ ইডির। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের এক ডিসি-র পরিবারের সদস্যদের নাম এই লেনদেনে জড়িয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট যে, এই সিন্ডিকেটের হাত অনেক গভীরে ছিল।

ইডির জালে আরও রাঘববোয়াল?

জয় কামদারের ডায়েরি এবং ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের কথায়, “জালিয়াতির যে পদ্ধতি কামদার ব্যবহার করত, তা যে কোনো বড় মাপের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকেও হার মানায়।” এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা।