ভোটের মুখে ‘ডিল’ বিতর্ক! হুমায়ুনের সঙ্গ ছেড়ে মমতার ওপর আস্থা, নাটকীয় দলবদল মুর্শিদাবাদে

ভোটের মরসুমে বড়সড় ধাক্কা খেলেন রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর নবগঠিত দল ছেড়ে সপার্ষদ তৃণমূলে যোগ দিলেন ৪ জন প্রার্থী। দলত্যাগের কারণ হিসেবে তাঁরা সরাসরি আঙুল তুলেছেন হুমায়ুনের দিকেই। তাঁদের অভিযোগ—নেপথ্যে বিজেপির সঙ্গে ‘ডিল’ করার চাপ দিচ্ছিলেন স্বয়ং হুমায়ুন কবীর!
আকস্মিক দলবদল: নেপথ্যে কোন রহস্য?
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিলই, কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুর্শিদাবাদের ওই চার প্রার্থী জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন। দলত্যাগীদের দাবি, হুমায়ুন কবীর তাঁদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিলেন যেন তাঁরা বিজেপির সুবিধার্থে তলে তলে সমঝোতা করেন। এই ‘গোপন আঁতাত’ মানতে না পেরেই তাঁরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
অভিযোগের তির হুমায়ুনের দিকে
তৃণমূলে যোগ দেওয়া এক প্রার্থীর কথায়, “আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দলের অন্দরে যেভাবে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তাতে আমাদের সম্মানহানি হচ্ছিল। তাই আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের হাত শক্ত করতেই ঘরে ফিরলাম।”
চাপে পড়বেন কি হুমায়ুন কবীর?
নিজের অনুগামীদের এভাবে হারানো হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে তিনি নিজেই তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে আলাদা অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই চালাচ্ছিলেন। এই ভাঙনের ফলে ওই অঞ্চলে তৃণমূলের শক্তি যেমন বৃদ্ধি পেল, তেমনি বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের তথাকথিত ‘ডিল’ নিয়ে বিরোধীরাও সরব হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল।
এক নজরে মূল ঘটনা:
হুমায়ুন কবীরের দল ছেড়ে ৪ প্রার্থীর তৃণমূলে যোগদান।
বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করার চাপের অভিযোগ।
ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড় রদবদল।