উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গে ঝাড়ু দেবে গেরুয়া শিবির? প্রথম দফার ভোটে বিজেপির রণকৌশল ফাঁস!

নির্বাচনী দামামা তুঙ্গে। ২৩ এপ্রিল বাংলার ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে হতে চলেছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় মূলত উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভোট। আর এই ১৫২টি আসনকেই জয়ের সোপান হিসেবে দেখছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক তাঁদের জেলাওয়ারি হিসাব ও প্রত্যাশা।

টার্গেট ১৭৭ এবং প্রথম দফার গুরুত্ব: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে, বিজেপি এবার রাজ্যে ১৭৭টি আসনে জয়লাভ করবে। এই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিজেপির অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, এই ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০০-১১০টি আসন দখল করতে চায় তারা।

জেলাওয়ারি গেরুয়া প্রত্যাশা:

  • উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার): ২০১৯ এবং ২০২১-এর ট্রেন্ড ধরে রেখে এই জেলাগুলিতে প্রায় ‘ক্লিন সুইপ’ করার লক্ষ্য বিজেপির। নিশীথ প্রামাণিকদের গড় কোচবিহারে সবকটি আসনেই জয়ের আশা করছে দল।

  • জঙ্গলমহল (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম): এই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির সংগঠন বরাবরই মজবুত। গত লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে এখানে অন্তত ৮০ শতাংশ আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

  • শিল্পাঞ্চল (পশ্চিম বর্ধমান): আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে খনি মাফিয়া বিরোধী ইস্যুকে হাতিয়ার করে গতবারের তুলনায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে অমিত শাহর।

  • মালদা ও মুর্শিদাবাদ: এই দুই জেলায় বিজেপির টার্গেট মূলত সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগির সুবিধা নিয়ে ৪-৬টি চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে আনা।

অমিত শাহর রণকৌশল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, গত নির্বাচনে বিজেপি ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে ৪৬-৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ একাই বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেবে বলে তাঁর বিশ্বাস।