পাঞ্জাবে সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব! মোহালিতে রিসার্চ সেন্টার খুলতে এনএক্সপি-কে আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের

ভারতের ‘শস্যভাণ্ডার’ পাঞ্জাব এবার বিশ্বের টেক-মানচিত্রে নিজের জায়গা পাকা করতে চলেছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর এবং হাই-ইলেকট্রনিক্স বাজারে রাজ্যকে শীর্ষে নিয়ে যেতে কোমর বেঁধে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থা এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টরস (NXP Semiconductors)-কে মোহালিতে একটি বিশ্বমানের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

কেন মোহালিই হবে পরবর্তী সিলিকন ভ্যালি?
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এনএক্সপি-র শীর্ষ কর্তাদের সাথে বৈঠকে পাঞ্জাবের শক্তিশালী মেধা পরিমণ্ডলের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান:

দক্ষ কর্মী বাহিনী: আইআইটি রোপার, আইএসবি মোহালি এবং পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি বছর উচ্চমানের প্রকৌশলী তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যমান ইকোসিস্টেম: মোহালিতে ইনফোসিসের মতো আইটি জায়ান্টের উপস্থিতি এবং সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরির (SCL) সম্প্রসারণ চিপ ডিজাইনের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

টাটা কানেকশন: ভারত সরকারের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে টাটা গ্রুপের সাথে অংশীদারিত্বে মোহালির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে।

শিল্পনীতি ২০২৬: ১২৫% পর্যন্ত বাম্পার অফার!
বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পাঞ্জাব সরকার নিয়ে এসেছে নতুন শিল্প ও ব্যবসা উন্নয়ন নীতি (IBDP) ২০২৬। এই নীতির অধীনে:

ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টরকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নতুন শিল্প স্থাপনে স্থির মূলধন বিনিয়োগের ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ দেওয়া হচ্ছে।

লক্ষ্য: স্মার্ট কার ও নিরাপদ কানেক্টিভিটি
মুখ্যমন্ত্রী চান পাঞ্জাবের উদীয়মান অটোমোবাইল শিল্পকে কাজে লাগিয়ে এনএক্সপি এমন প্রযুক্তি তৈরি করুক যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গাড়িগুলোতে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে:

ADAS (অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম): নিরাপদ ড্রাইভিং প্রযুক্তি।

NFC ও নিরাপদ কানেক্টিভিটি: সুরক্ষিত ডাটা আদান-প্রদান ব্যবস্থা।

স্টার্টআপ পাঞ্জাব ও এনএক্সপি চ্যালেঞ্জ
শুধু বড় কারখানা নয়, নতুন উদ্ভাবকদের পাশে দাঁড়াতেও আগ্রহী রাজ্য সরকার। বৈঠকে ‘স্টার্টআপ পাঞ্জাব’-এর সাথে এনএক্সপি-র যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঞ্জাবের তরুণ প্রজন্ম অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির সুযোগ পাবে।