‘বাড়িতে বলে আসবেন, ফিরতে দেরি হবে,’ -‘ভুয়ো’ ভোটারদের এবার হুঁশিয়ারি কুণালের

ভোটের আগে বাংলায় শব্দজব্দ আর হুমকির লড়াই এখন তুঙ্গে। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন ‘গুণ্ডাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা’ করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পাল্টা রণং দেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। শাহের মন্তব্যের রেশ টেনে কুনাল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অন্য রাজ্যের কেউ যদি বাংলার বুথে কারচুপি করতে ধরা পড়েন, তবে তাঁদের ‘বাড়িতে ফিরতে দেরি হবে’।

শাহের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বার্তা

নির্বাচনী প্রচারে এসে অমিত শাহ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডামরাজ’-এর অভিযোগ তুলে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল:

  • ৫ মে-র দাওয়াই: বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ৫ মে-র পর থেকে গুণ্ডাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।

  • ২৯ এপ্রিলের ডেডলাইন: গুণ্ডাদের আত্মসমর্পণের কথা বলে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনওভাবেই বুথ দখল বা রিগিং বরদাস্ত করবে না।

  • নির্ভয়ে ভোট: কোচবিহার ও বীরভূমের সভা থেকে ভোটারদের ভরসা দিয়ে শাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে তাঁদের কেশাগ্রও কেউ ছুঁতে পারবে না।

কুনালের পাল্টা ‘হাড়হিম’ হুঙ্কার

অমিত শাহের এই মন্তব্যের জবাবে কুনাল ঘোষ দাবি করেন, আসলে অমিত শাহের লোকেরাই ভিন রাজ্য থেকে লোক এনে ভুয়ো নথির মাধ্যমে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন:

“অন্য রাজ্যের ভোটার যদি এখানে বুথে ধরা পড়েন… তাঁরা বাড়িতে বলে আসবেন যে ফিরতে দেরি হবে। জনসাধারণই সমস্ত অন্যায়ের জবাব দেবে।”

অর্থাৎ, বহিরাগত ভোটারদের রুখতে তৃণমূল যে ‘জনসাধারণ’-কে ঢাল করবে, কুনালের কথায় সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।

মমতা উদার, আমি নই: অভিষেক

এদিকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শাহের আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। অভিষেকের আক্রমণাত্মক বার্তা: “অমিত শাহ বলেছিলেন ২৩ তারিখ তৃণমূলের লোকেরা বাড়ি থেকে বেরোবেন না। আপনি কত বড় গুণ্ডা আর আপনার কত ক্ষমতা, তা ৪ জুন (ভোট গণনার দিন) দেখা হবে। মাথায় রাখবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হতে পারেন, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উদার নয়।”

ভোটের আগেই উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি

প্রথম দফার ভোটের আগে দুই শিবিরের এই ‘গুণ্ডা-তরজা’ রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে শাহের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভরসা, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘জনসাধারণের প্রতিরোধ’— এই দুই শক্তির লড়াইয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলার বুথে বুথে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।