ইতিহাসের অবসান! অ্যাপেলের সিইও পদ ছাড়ছেন টিম কুক, কে এই জন টের্নাস যিনি সামলাবেন আইফোনের সাম্রাজ্য?

টেক দুনিয়ায় এক বিশাল যুগের অবসান হতে চলেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার পর অ্যাপেল (Apple)-এর সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন টিম কুক। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই তিনি আর এই পদে থাকছেন না। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন অ্যাপেলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টের্নাস।

১৯৯৮ থেকে ২০২৬: একটি অবিশ্বাস্য যাত্রা
স্টিভ জবসের পর ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট যখন টিম কুক অ্যাপেলের হাল ধরেছিলেন, তখন অনেকের মনেই সংশয় ছিল। কিন্তু কুক তাঁর দূরদর্শিতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি সেরাদের সেরা।

মূল্যবৃদ্ধি: ২০১১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, অ্যাপেলের শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১৩.৪৪ ডলার। আজ ২০২৬ সালে সেই শেয়ারের দাম ২৭৩ ডলার ছাড়িয়েছে।

মূলধন: ১৯৭ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিকে কুক টেনে নিয়ে গিয়েছেন ৪.০১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডিতে। অর্থাৎ তাঁর জমানায় কোম্পানির ভ্যালুয়েশন বেড়েছে ২০ গুণেরও বেশি।

মাইক্রোসফট-গুগলকে টেক্কা
টিম কুকের নেতৃত্বে অ্যাপেল কেবল আইফোন বা ম্যাকবুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি অ্যাপেল মিউজিক, আইক্লাউড এবং অ্যাপ স্টোরের মতো পরিষেবাগুলোকে শক্তিশালী করে আয়ের স্থায়ী উৎস তৈরি করেছেন। কুকের হাত ধরেই অ্যাপেল বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ১, ২, ৩ এবং অবশেষে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফট ও গুগলকেও পিছনে ফেলে অ্যাপেল এখন বিশ্বের সবথেকে দামী প্রযুক্তি সংস্থা।

নতুন যুগের শুরুতে জন টের্নাস
সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপেলের হটসিটে বসতে চলা জন টের্নাস গত কয়েক বছর ধরে আইফোন এবং আইপ্যাডের হার্ডওয়্যার ডিজাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকের তৈরি করা মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে টের্নাস অ্যাপেলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও নতুন প্রযুক্তির কোন শিখরে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার।

টিম কুকের এই বিদায় অ্যাপেল প্রেমীদের কাছে যেমন আবেগের, তেমনই এক নতুন রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছে প্রযুক্তি মহল।