“মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবই, আমি লক্ষ্যে অবিচল!” ভবানীপুর নিয়ে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবচেয়ে বড় চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুর। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্যদিকে তাঁরই একসময়ের ছায়াসঙ্গী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু এবার জোড়া কেন্দ্রে লড়ছেন। তবে ভবানীপুরে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর ব্যাপারে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী? টিভি৯ বাংলায় দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই রহস্যই ফাঁস করলেন তিনি।
“ফাঁকা আওয়াজ দিই না, মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবই”
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবই, আমি আমার লক্ষ্যে অবিচল।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি অন্য নেতাদের মতো ফাঁকা আওয়াজ দেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে গতবার মমতাকে হারানোর পর শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাস এখন আকাশছোঁয়া। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন এবং তৃণমূলের তথাকথিত ‘অপশাসন’-এর অবসান ঘটবে।
কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন শুভেন্দু?
পাঁচ বছর আগে কেন দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই পুরনো ক্ষতের কথাও আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, নীতি ও আদর্শের সংঘাত এবং পরিবারের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই তাঁর এই বিদ্রোহ ছিল। মানুষের কাজ করার জন্যই তিনি গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার কি শুভেন্দু?
বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে কি শুভেন্দু অধিকারীই হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্নের উত্তরে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি অত্যন্ত কৌশলী ঢঙে বলেন, “আমি ত্যাগী, ভোগী নই।” অর্থাৎ পদের মোহ যে তাঁর নেই, সেটাই তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তবে তাঁর এই মন্তব্য কি কেবলই বিনয়, না কি দলের অন্দরের কোনো বিশেষ সমীকরণ— তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূলের পাল্টাচাল
এদিকে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় এবং সেখানকার মানুষ ঘরের মেয়েকেই পছন্দ করবেন। শুভেন্দুর ‘লক্ষ্যে অবিচল’ থাকা কেবলই দিবা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।
আগামী ভোটের ফলাফলই বলবে, শুভেন্দুর এই ‘ত্যাগ’ আর ‘লক্ষ্য’ তাঁকে সফলতার কোন শিখরে নিয়ে যায়।