ডিএ-র ফাইল কি দিল্লির টেবিলে আটকে? এপ্রিলের বেতনে ৪% বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ, চরম উৎকণ্ঠায় সরকারি কর্মীরা!

এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ দরজায় কড়া নাড়ছে, কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মীদের মনে স্বস্তির বদলে এখন কেবলই প্রশ্ন— “বাড়তি ৪ শতাংশ ডিএ কি এবারে মিলবে?” বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি বা ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ বলবৎ থাকায়, নতুন করে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ECI) অনুমতি বাধ্যতামূলক। আর এখানেই আটকে গিয়েছে পুরো প্রক্রিয়া।
এইচআরএমএস (HRMS) সিস্টেমে জট
সাধারণত প্রতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি কর্মীদের বেতন বিল এইচআরএমএস সিস্টেমে আপলোড করে ট্রেজ়ারিতে পাঠানো হয়। কিন্তু বর্ধিত ডিএ-র অনুমতি না আসায় ডিডিও (DDO) বা বিল তৈরির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সোমবার বিল তৈরির শেষ দিন থাকলেও, কমিশনের সবুজ সংকেত না মেলায় পুরনো হারেই বিল জমা পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কেন এই অনিশ্চয়তা?
কমিশনের অনুমতি: রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ডিএ বৃদ্ধির অনুমতির আবেদন দিল্লিতে পাঠিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনও সেই ফাইল ছাড়েনি।
সময়ের অভাব: মাসের ২০ তারিখ পেরিয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে বিল তৈরি করে বর্ধিত ডিএ যোগ করা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন।
শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সমস্যা: এঁদের বেতন বিল মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে অনুমতি এখন এলেও, এই মাসে বাড়তি টাকা পাওয়ার পথ তাঁদের জন্য কার্যত বন্ধ।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন, যা এপ্রিল মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় সব পরিকল্পনায় জল পড়ে গিয়েছে। যদি চলতি সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের ছাড়পত্র না আসে, তবে এপ্রিল মাসেও কর্মীদের পুরনো হারেই ডিএ নিতে হবে। পরবর্তীকালে অনুমতি মিললে হয়তো এরিয়ার বা বকেয়া হিসেবে এই টাকা পাওয়া যেতে পারে, তবে চলতি মাসে নগদ হাতে পাওয়ার আশা ক্ষীণ।
অন্দরমহলের খবর: নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কমিশন যদি মনে করে এই সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ঘোষিত (বাজেটে), তবে ছাড়পত্র মিলতে পারে। কিন্তু যদি এটিকে ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কৌশল’ হিসেবে দেখা হয়, তবে ভোট না মেটা পর্যন্ত এই ফাইল ঝুলেই থাকবে।