“দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি “-আবার বিয়ে করতে চান অভিনেত্রী শ্রীনন্দা?

টলিপাড়ার পরিচিত মুখ এবং প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী জুটি আনন্দ শঙ্কর ও তনুশ্রী শঙ্করের কন্যা শ্রীনন্দা শঙ্কর। সিনেমার পর্দায় খুব একটা দেখা না গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে তাঁর ডেইলি ভ্লগিংয়ের ভক্ত সংখ্যা অগণিত। তবে ইদানীং কাজের চেয়েও শ্রীনন্দার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন তিনি। আর বিচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন শ্রীনন্দা?

‘ন্যাড়া বেলতলায় কবার যায়?’

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শ্রীনন্দা। দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, “অনেকেই জিজ্ঞাসা করে তুই কি আবার বিয়ে করবি? আমি বলি, ন্যাড়া বেলতলায় কবার যায়?” তাঁর এই মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত কথা দিতে চাননি তিনি।

মনের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার পালা

বিয়ের প্রসঙ্গে একটি চমৎকার উদাহরণ টেনে শ্রীনন্দা বলেন, “হাতে কোথাও কেটে গেলে সেটা সারতে সময় লাগে। ওষুধ লাগাতে হয়, ক্ষত শুকোতে হয়, তারপরই তো হাতটা আবার ব্যবহার করা যায়। এই বিষয়টাও ঠিক তেমন।” অর্থাৎ, দীর্ঘ ১৬ বছরের সম্পর্কের ভাঙন কাটিয়ে উঠতে যে তিনি এখনও মানসিক প্রস্তুতির পর্যায়ে আছেন, তা স্পষ্ট করে দিলেন তনুশ্রী-কন্যা।

সুখী দাম্পত্যের আড়ালে লুকানো সত্যি

২০০৯ সালে পার্সি যুবক গেভ সাতারাওয়ালার সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন শ্রীনন্দা। মুম্বইয়ের সেই বিলাসবহুল জীবন আর হাসিখুশি সব ছবি দেখে অনুরাগীরা ভাবতেন তাঁরা বুঝি টলিপাড়ার অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। কিন্তু বিচ্ছেদের পর শ্রীনন্দা স্পষ্ট জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা রঙিন ছবির মানেই কিন্তু সুখী দাম্পত্য নয়। বাইরের চাকচিক্যের আড়ালে অন্দরের কাহিনি ছিল একেবারেই আলাদা।

নিজের ছন্দে শ্রীনন্দা

স্বামী গেভ-এর সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা শেষ হলেও দমে যাননি শ্রীনন্দা। আপাতত কলকাতা এবং মুম্বই— দুই শহর মিলিয়েই নিজের কাজ সামলাচ্ছেন তিনি। নাচের পাশাপাশি তাঁর দৈনন্দিন জীবনের ভ্লগ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি পছন্দ করছেন। জীবনের এই কঠিন সময়ে নিজেকে সময় দেওয়া এবং কাজকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিয়ে হোক বা না হোক, শ্রীনন্দা যে নিজের শর্তে বাঁচতে শিখে গেছেন, তাঁর প্রতিটি কথাতেই যেন সেই আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ছে।