নেতাজি কি ‘জাতির পুত্র’? সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ঘিরে তোলপাড়, মামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন!

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘জাতির পুত্র’ (National Son) হিসেবে ঘোষণা করার দাবি নিয়ে করা একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) সোমবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু মামলা খারিজই নয়, মামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মামলাকারী পিনাকপাণি মোহান্তিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন:

“আপনি কি প্রচারের আলোয় আসার জন্য বারবার একই ধরনের মামলা করছেন? এর আগেও আপনি এই একই আর্জি নিয়ে এসেছিলেন যা আদালত খারিজ করেছিল। আমরা আপনাকে সুপ্রিম কোর্টে ঢোকা নিষিদ্ধ করে দিতে পারি।”

কী ছিল মামলার দাবি? মামলাকারীর প্রধান দাবিগুলো ছিল:

  • নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতির পুত্র’ (National Son) ঘোষণা করা হোক।

  • আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA)-কে ভারতের স্বাধীনতার প্রধান কৃতিত্ব দেওয়া হোক।

  • নেতাজির জন্মদিন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠা দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

কেন ক্ষুব্ধ আদালত? আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো বিচারবিভাগের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এগুলি সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই নেতাজিকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছেন। কোনো আইনি ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর মাহাত্ম্য বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আদালত আরও জানায় যে, নেতাজির একমাত্র আইনি উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা অনিতা বসু ফাফ। যদি কোনো আইনি দাবি থাকে, তবে তা তাঁর তরফ থেকেই আসা উচিত।

মামলাকারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা: আদালত এই মামলাটিকে ‘ফালতু’ (Frivolous) বলে অভিহিত করেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই মামলাকারীর পক্ষ থেকে একই ধরনের কোনো জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করা না হয়। আদালত সাফ জানায়, “বিনা কারণে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা বরদাস্ত করা হবে না।”

ডেইলিয়ান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: নেতাজি নিয়ে ভাবাবেগ বাঙালির হৃদয়ে চিরকালই অমলিন। কিন্তু আইনি পথে তাঁকে ‘জাতীয় সন্তান’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা আদালতের চোখে কেবলই ‘সস্তার জনপ্রিয়তা’ পাওয়ার কৌশল হিসেবে ধরা দিয়েছে। এই রায় প্রমাণ করল যে, ইতিহাসের মহাপুরুষদের সম্মান আদালতের রায়ের ওপর নয়, বরং জনগণের হৃদয়েই সুরক্ষিত।