১১০০ কোটির ঘোটালা ও ভুয়ো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান! ডিসিপি শান্তনু ও তাঁর ছেলেদের অ্যাকাউন্টে কি গিয়েছে সিন্ডিকেটের টাকা?

দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস সোনা পাপ্পু এবং প্রোমোটার জয় কামদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এবার সরাসরি তলব করা হলো কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Special Branch) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। তবে একা শান্তনু নন, ইডির স্ক্যানারে রয়েছেন তাঁর দুই ছেলেও। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের সশরীরে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ম্যারাথন তল্লাশির পর তলব গত রবিবারই বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাট সহ তাঁর মোট পাঁচটি ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। প্রায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে তল্লাশি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শান্তনু যখন কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন, সেই সময় থেকেই সোনা পাপ্পু ও ধৃত প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ মিলেছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথি এবং মোবাইলের তথ্য যাচাই করার পরেই পিতা ও দুই পুত্রকে তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কি আর্থিক তছরুপ? ইডির নজরে রয়েছেন শান্তনুর দুই ছেলেও, যাঁরা একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, একটি ট্রাস্ট থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিভিন্ন ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানিতে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সোনা পাপ্পুর সিন্ডিকেটের কালো টাকা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সাদা করা হয়েছে কি না। জয় কামদারের সঙ্গেও ওই দুই যুবকের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করছে ইডি।
তদন্তের কেন্দ্রে ‘কালীঘাট যোগ’ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এক সময় কালীঘাট থানার প্রভাবশালী ওসি ছিলেন। ইডির দাবি, সেই সময় দক্ষিণ কলকাতায় সোনা পাপ্পুর জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং তোলাবাজির যে সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, তাতে প্রশাসনের একাংশের মদত ছিল। জয় কামদারকে জেরা করে এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিতে শান্তনুর পরিবারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু ‘সন্দেহজনক’ ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ভোটের মুখে কলকাতা পুলিশের একজন পদস্থ আধিকারিককে এভাবে তলব করায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে পুলিশ ও প্রশাসনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, তা এই তলব থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে।
এখন দেখার, ইডির জেরায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তাঁর দুই পুত্র এই বিপুল আর্থিক লেনদেন নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেন।