ওভারটেক না মরণফাঁদ? রায়গঞ্জ ও ইটাহারে মহাপ্রলয়, ৬ জনের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

সোমবার উত্তর দিনাজপুরের জন্য ছিল এক অভিশপ্ত দিন। জেলায় দুটি পৃথক এবং ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৬ জন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যই তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রথম দুর্ঘটনা: জীবন বাঁচাতে গিয়েই ঝরল প্রাণ প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে রায়গঞ্জের মহাদেবপুর এলাকায়। পুলিশ জানায়, মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ধান বোঝাই লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ডাম্পার চালক মানজারুল ইসলাম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গাজল টোলপ্লাজা থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে উদ্ধারে ছুটে এসেছিলেন কর্মীরা। কিন্তু ফেরার পথে মহাদেবপুরেই একটি ট্রেলার সেই অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুবল সরকার নামে এক অ্যাম্বুলেন্স কর্মীর। অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের ধাক্কা দিলে আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনা: ইটাহারে নিয়ন্ত্রণহীন মেলার গাড়ি অন্যদিকে, ইটাহারের বাঙ্গার এলাকায় অন্য একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। জানা গেছে, একটি মেলায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম বোঝাই গাড়ি মালদার দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি পরিত্যক্ত ঘরে ধাক্কা মারে। সেখানেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ এখনও মৃতদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।

স্বজনহারাদের আর্তনাদ: মৃত অ্যাম্বুলেন্স কর্মী সুবল সরকারের আত্মীয় পুরঞ্জয় কুমার রায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সুবল মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গিয়েছিল, কিন্তু নিয়তি তাকেই কেড়ে নিল।” এদিকে ডাম্পারের খালাসি আজাহারুল শেখ জানান, কুয়াশা বা ক্লান্তির কারণে হয়তো চালকের চোখ লেগে গিয়েছিল, যার ফলে এই বিপত্তি।

বর্তমানে আহতরা রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ ঘাতক যানগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।