নির্বাচনের মুখে ‘তদন্তকারী’দের নিশানায় তৃণমূল? ৮০০ নেতাকে নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। এবার আইনি লড়াই গড়াল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৮০০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্টে দায়ের করা হল একটি জনস্বার্থ মামলা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, গ্রেফতারির আশঙ্কায় থাকা এই তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম রয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় তৃণমূল তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সংস্থা বা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের মাঠপর্যায়ের নেতা ও সক্রিয় কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের কাছে তাঁদের আবেদন, কোনও পোক্ত প্রমাণ ছাড়া যেন এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। সোমবার হাইকোর্টে এই মামলার অনুমতি মিলেছে বলে সূত্রের খবর।
তালিকায় কারা রয়েছেন? রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে যে তাঁরা একটি তালিকা পেয়েছেন যেখানে প্রায় ৮০০ জনের নাম রয়েছে। এই তালিকায় শুধুমাত্র ব্লক স্তরের নেতা নন, রয়েছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন এমন একাধিক প্রার্থীর নামও। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধীদের ইন্ধনেই নির্বাচনের এই সংকটময় সময়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হচ্ছে।
হাইকোর্টের অবস্থান মামলাটি ইতিমধ্যেই বিচারপতিদের নজরে আনা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অকারণে গ্রেফতারির ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে পালটা সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে বা যারা অতীতে হিংসার ঘটনায় জড়িত ছিল, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হবে। একে ‘ভিক্টিম কার্ড’ বলে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের এই বিপুল সংখ্যক নেতার গ্রেফতারির আশঙ্কা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, কলকাতা হাইকোর্ট এই ৮০০ জনের বিষয়ে কোনও রক্ষাকবচ প্রদান করে কি না।