মেটায় মহাপ্রলয়! ৮০০০ কর্মীকে পিঙ্ক স্লিপ ধরাচ্ছেন জাকারবার্গ, চাকরি খাওয়ার নেপথ্যে কি তবে AI?

বিশ্বজুড়ে ফের ঘনিয়ে আসছে বেকারত্বের কালো মেঘ। এবার সেই আশঙ্কায় সিলমোহর দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মেটা (Meta) গণছাঁটাইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থায় কর্মরত কয়েক হাজার কর্মীর মাথার ওপর এখন ঝুলছে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া। রয়টার্স সূত্রে খবর, মে ২০২৬-এর মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত?
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব। মেটা এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের বদলে এআই প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে চাইছে। এর ফলে:

মে মাসের মধ্যেই মোট কর্মী সংখ্যার ১০ শতাংশ (প্রায় ৮০০০ কর্মী) চাকরি হারাবেন।

চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে আরও ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে মেটা থেকে প্রায় ১৬ হাজার কর্মীর বিদায় ঘণ্টা বাজতে চলেছে।

আইটি সেক্টরে হাহাকার:
২০২৬ সালটি যেন প্রযুক্তি কর্মীদের কাছে অভিশপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের প্রথম চার মাসেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন। বছরের শেষে এই সংখ্যাটা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেটার আগেই এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে টেক জায়ান্ট ওরাকল (Oracle)। গত ৩১ মার্চ স্রেফ একটি ই-মেলের মাধ্যমে তারা প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, যার মধ্যে ১২ হাজারই ছিল ভারতীয়।

ছাঁটাই কি এখন ‘নিউ নর্মাল’?
কোভিড পরবর্তী সময়ে যে ডিজিটাল জোয়ার এসেছিল, তাতে গা ভাসিয়ে টেক কোম্পানিগুলো রেকর্ড নিয়োগ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ট্রেন্ড বদলে গেছে। কোডিং, ডিজাইনিং থেকে শুরু করে ফ্যাক্ট চেকিং বা মডারেশন— যে কাজগুলো আগে মানুষ করত, এখন তা নিপুণভাবে করছে এআই। ফলে সাশ্রয়ের পথে হাঁটতে গিয়েই মানুষের জায়গায় রোবট বা সফটওয়্যারকেই বেছে নিচ্ছে সংস্থাগুলো।

মার্ক জাকারবার্গ এখনও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, মেটার অন্দরমহলে উদ্বেগের পারদ চড়ছে। এই গণছাঁটাই কি তবে প্রযুক্তি বিশ্বের ভবিষ্যৎকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে? উত্তর দেবে সময়।