“যুদ্ধ না শান্তি?” ট্রাম্পের শেষ সুযোগ তেহরানকে! পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের সংঘাতের মাঝে কাঁপছে ইসলামাবাদ

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা! একদিকে হরমুজ প্রণালীতে অশান্তি, অন্যদিকে পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাপড়েন। এর মাঝেই ইরানের প্রতি যেমন বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেন, তেমনই নজিরবিহীন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাল, সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে চলেছে এই দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকা-ইরান সমঝোতা বৈঠক।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: “আর ভদ্রতা নয়”

রবিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি ‘যৌক্তিক’ চুক্তি করতে চান। কিন্তু ইরান যদি তাতে রাজি না হয়, তবে ফল হবে ভয়াবহ। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ওরা যদি কথা না শোনে, তবে আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। ‘মিস্টার নাইস গাই’ হওয়ার দিন শেষ!”

হরমুজে ভারতীয় জাহাজে হামলা: উত্তপ্ত জলপথ

শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস। হামলায় জাহাজের জানলার কাচ ভেঙে যায়, প্রাণভয়ে পিছিয়ে আসে ব্রিটিশ ও ফরাসি জাহাজগুলিও। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালিকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

কেন ইসলামাবাদকে বেছে নিলেন ট্রাম্প?

আগামিকাল সন্ধ্যায় ইসলামাবাদের মাটিতেই মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী। তবে ইরান এখনও অনড়। তেহরানের সাফ কথা— “যতক্ষণ না আমেরিকা হরমুজ প্রণালী থেকে তাদের নৌসেনা সরাচ্ছে, ততক্ষণ কোনও চুক্তিতে সই নয়।”

ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ জানিয়েছেন, সমঝোতা এখনও অনেক দূরের পথ। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল দখল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ঘালিবাফের কথায়, “আমরা আলোচনা করছি ঠিকই, কিন্তু কতগুলি মৌলিক বিষয়ে এখনও বিস্তর ফারাক রয়েছে।”

বিশ্ব রাজনীতি এখন তাকিয়ে ইসলামাবাদের দিকে। কালকের বৈঠক কি শান্তির রাস্তা দেখাবে, নাকি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্যি হয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়বে? নজর থাকবে সেদিকেই।