ভারত-থাইল্যান্ড মৈত্রীতে নয়া পালক! ফুকেটে দ্বিপাক্ষিক মহড়া সেরে পরবর্তী গন্তব্যে পাড়ি দিল আইএনএস সুনয়না

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে থাইল্যান্ডের ফুকেট বন্দরে তিন দিনের সফল সফর শেষ করল ভারতীয় নৌবাহিনীর টহলদারি জাহাজ আইএনএস সুনয়না (INS Sunayna)। আজ সকালে ফুকেট বন্দর থেকে জাহাজটি তার পরবর্তী অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

সফরের বিশেষ দিকগুলি:

  • যুগ্ম মহড়া: থাইল্যান্ডে থাকাকালীন রাজকীয় থাই নৌবাহিনীর (Royal Thai Navy) আধিকারিকদের সঙ্গে পেশাদার আলাপ-আলোচনা এবং সমুদ্রে ‘পাসেক্স’ (PASSEX) মহড়ায় অংশ নিয়েছে সুনয়না। এর ফলে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

  • সামুদ্রিক নিরাপত্তা: এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলপথে চোরাচালান ও জলদস্যুতা মোকাবিলায় যৌথ রণকৌশল তৈরি করা।

  • সাংস্কৃতিক বিনিময়: বন্দরে অবস্থানকালে থাই সাধারণ মানুষ এবং নৌসেনা কর্মীদের জন্য ‘ওপেন শিপ’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

আইএনএস সুনয়নার গুরুত্ব: আইএনএস সুনয়না হলো একটি অত্যাধুনিক সারফেস প্ল্যাটফর্ম, যা দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে নজরদারি চালাতে সক্ষম। বর্তমানে ভারত যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমোজ প্রণালীতে নিজেদের জাহাজ রক্ষায় ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সুনয়নার এই উপস্থিতি ভারতের বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশলেরই অংশ।

পরবর্তী গন্তব্য: নিরাপত্তার খাতিরে সুনয়নার পরবর্তী গন্তব্য গোপন রাখা হলেও, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা— জাহাজটি আন্দামান সাগর হয়ে মালাক্কা প্রণালীর আশেপাশে টহল দিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।

উপসংহার: ২০২৬-এর এই অশান্ত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আইএনএস সুনয়নার এই সফর প্রমাণ করে যে ভারত কেবল নিজের সীমান্ত নয়, বরং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মিলে গোটা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।