ভোটের আগেই কি দাঙ্গা দমনে সেনা? বাংলায় প্রথম দফার ভোটের আগে উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক, তুঙ্গে জল্পনা

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার ঠিক আগেই রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দাঙ্গা দমনে সেনার ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে এক তীব্র গুঞ্জন। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলার সীমান্তবর্তী এবং স্পর্শকাতর এলাকায় সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে ঝটিতি বৈঠকে বসেছেন সেনাপ্রধানরা। মূলত নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে খবর।

কেন এই ঝটিতি বৈঠক? রাজনৈতিক মহলে খবর, এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলাকে ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • দাঙ্গা দমনে বিশেষ নজর: ভোটের প্রচার চলাকালীন এবং নির্বাচনের দিন কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক দাঙ্গা যাতে না ছড়ায়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইছে দিল্লি।

  • সীমান্ত সুরক্ষা: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে বিএসএফ-এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সমন্বয় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

  • প্রথম দফার প্রস্তুতি: আগামী ২৩শে এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার আগেই ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে এই রণকৌশল তৈরি হচ্ছে।

সর্বকালীন রেকর্ড বাহিনী: ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে, বাংলায় এবার রেকর্ড ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানুষের আস্থা ফেরাতে কেন সেনাপ্রধানদের এই বৈঠক, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি ঘটলে দ্রুত সেনা নামানোর ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি রাখতেই এই ঝটিতি বৈঠকের অবতারণা।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই কড়াকড়িকে ‘ভয় দেখানোর কৌশল’ বলা হলেও, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি— অবাধ ও শান্তিপূর্ন নির্বাচনের জন্য কড়া মেজাজে নিরাপত্তা প্রয়োজন। বিরোধীদের বক্তব্য, ২০২১-এর অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্যই এবার সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।

উপসংহার: কলকাতার রাস্তায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রুট মার্চ। সেনাপ্রধানদের এই ঝটিতি বৈঠক কি বাংলার নির্বাচনী মানচিত্রে নতুন কোনো মোড় আনবে? অশান্তিমুক্ত ভোটের আশায় এখন প্রহর গুণছে সাধারণ মানুষ।