“শিক্ষা নয়, তোলাবাজিতেই ডিগ্রি!” মেদিনীপুরের সভায় দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে ধুয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে আজ মেদিনীপুরের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সব সীমা ছাড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতি এবং গত ১৫ বছরের শাসনকালকে বিঁধতে গিয়ে মোদী এক অভিনব উপমা ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল সরকার গত ১৫ বছরে জনসেবা নয়, বরং লুঠপাটে PhD করে ফেলেছে।”

মোদীর আক্রমণের ঝাঁঝ: মেদিনীপুরের বিশাল জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেন:

  • দুর্নীতির ডিগ্রি: মোদী বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন— তৃণমূল যেখানেই হাত দিয়েছে, সেখানেই দুর্নীতি হয়েছে। এরা চুরিবিদ্যাকে বিজ্ঞানে পরিণত করেছে। সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করার বিষয়ে এরা এখন PhD হোল্ডার।”

  • উন্নয়নে বাধা: প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র টাকা দিলেও সিন্ডিকেট রাজের কারণে সেই সুবিধা মেদিনীপুর তথা বাংলার প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না।

  • বাংলার সম্মানহানি: তিনি দাবি করেন, যে বাংলা একসময় জ্ঞান-বিজ্ঞানে পথ দেখাত, তৃণমূলের শাসনে সেই বাংলার পরিচিতি এখন কেবল দুর্নীতির আখড়া হিসেবে।

সন্দেশখালি ও নারী নিরাপত্তা: এদিনও মোদীর বক্তৃতায় উঠে আসে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “লুঠপাটে যারা গোল্ড মেডেল পেয়েছে, তারা মা-বোনেদের নিরাপত্তা দেবে কী করে? মেদিনীপুরের মানুষই এবার তৃণমূলের এই অহংকারের বিদায়ঘণ্টা বাজাবে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, মেদিনীপুর বরাবরই শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি। সেই খাসতালুকে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে ‘লুঠপাটে PhD’ তকমা দিয়ে মোদী আসলে নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইলেন। নির্বাচনের আগে দুর্নীতির ইস্যুকেই যে বিজেপি প্রধান অস্ত্র করতে চলেছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে তা পরিষ্কার।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা জানানো হয়েছে যে, যারা দেশের সম্পত্তি বড় বড় শিল্পপতির হাতে তুলে দিচ্ছে, তাদের মুখে লুঠপাটের কথা মানায় না। বাংলার মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী এবং তারা মোদীর এই ‘মিথ্যাচার’-এর জবাব দেবে।