“নারীশক্তির স্বপ্নভঙ্গ!”-লাইভ ভাষণে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদের তুলোধনা মোদীর

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল (১৩১তম সংবিধান সংশোধনী) পাশ না হওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই আবহে শনিবার জাতির উদ্দেশে বিশেষ ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-র মতো ‘পরিবারবাদী’ দলগুলোকে নিশানা করেন।
মহিলাদের অপমানে হাততালি দিয়েছে বিরোধীরা! প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, বিলটি যখন সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পেয়ে খারিজ হয়ে গেল, তখন বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মোদী বলেন, “কংগ্রেস, ডিএমকে, এসপি এবং তৃণমূলের মতো দলগুলি স্বার্থপর রাজনীতি করছে। যখন বিলটি পাশ হলো না, তখন তারা হাততালি দিচ্ছিল, ডেস্ক চাপড়াচ্ছিল। মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের এই উল্লাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের মহিলাদের কাছে আবেগপ্রবণ হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আজ আমি দেশের মা-বোনেদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এসেছি। মহিলাদের অগ্রগতির এই চেষ্টা থমকে যাওয়া নিয়ে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। দেশজুড়ে আজ উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কারণ বিরোধীদের কারণে দেশের অর্ধেক জনশক্তির স্বপ্ন আজ ভেঙে যেতে দেখল দেশ।”
৫৪টি ভোটের জাদুকরী অঙ্কে হার উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক বিলটি পাশের জন্য লোকসভায় সরকারের ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। মাত্র ৫৪টি ভোটের অভাব এবং বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে এই বিলটি সংশোধনীর গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
হাল ছাড়ছে না সরকার প্রধানমন্ত্রী এদিন আবারও মনে করিয়ে দেন যে, তামিলনাড়ুর জনসভা থেকে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখনও অটুট। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই পরাজয়ে তিনি হাল ছাড়ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আইনি এবং সাংবিধানিক অন্যান্য বিকল্প পথ খুঁজছে।
মোদীর ভাষণের মূল নির্যাস:
-
রাজনৈতিক আক্রমণ: কংগ্রেস ও তৃণমূলের মতো দলগুলোর ‘বংশপরম্পরা’ রাজনীতিই এই বিলের পথে প্রধান বাধা।
-
আবেগপ্রবণ বার্তা: মহিলাদের অগ্রগতির পথে অন্তরায় তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।
-
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পরাজয় সত্ত্বেও নারী শক্তি বন্দন আইনের লক্ষ্য পূরণে বদ্ধপরিকর এনডিএ সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া ভাষণের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী দিনে নারী সংরক্ষণ ইস্যু যে নির্বাচনী ময়দানের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।