“বিরোধীদের ফল ভুগতেই হবে!” লোকসভায় হারার পর রুদ্রমূর্তি মোদীর, বড় বিপদে রাহুলরা?

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদী সাফ জানিয়েছেন, “বিরোধীরা ভুল করেছে, এর ফল তাদের ভুগতেই হবে।” আজ রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, বিরোধীদের এই ‘বাধা’ দেওয়াকে হাতিয়ার করেই দেশজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন তিনি।

“মহিলারা ক্ষমা করবে না”: মন্ত্রিসভায় মোদী

সূত্রের খবর, আজ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা দেশের অর্ধেক আকাশ অর্থাৎ মহিলাদের আশাহত করেছে। বিজেপির প্রতিটি কর্মী ও নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, ইন্ডিয়া (INDIA) জোট আসলে নারী উন্নয়নের বিরোধী।

রণক্ষেত্র দিল্লি: রাহুলের বাড়ির সামনে আগুন

বিলটি বাতিল হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজধানী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছে বিজেপি মহিলা মোর্চা। আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। বিজেপির স্পষ্ট বার্তা— এই বিল ফেল করার মাশুল বিরোধীদের দিতেই হবে।

বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: “সোমবারই অধিবেশন ডাকুন”

বিজেপির এই রণকৌশলের পাল্টা জবাব দিতে তৈরি ইন্ডিয়া জোটও। বিরোধীদের দাবি:

  • পুরানো বিল কার্যকর হোক: ২০২৩ সালে যে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছিল, সেটিই কোনো শর্ত ছাড়াই কার্যকর করুক সরকার।

  • সরাসরি চ্যালেঞ্জ: বিরোধীরা দাবি তুলেছেন, আগামী সোমবারই ফের সংসদের অধিবেশন ডাকা হোক এবং বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার সাহস দেখাক মোদী সরকার।

কেন এই সংঘাত?

সরকার চেয়েছিল আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) করে সিট সংখ্যা বাড়িয়ে সংরক্ষণ কার্যকর করতে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এটি আসলে ২০২৯-এর ভোট জেতার একটি ‘গেমপ্ল্যান’। এই দড়ি টানাটানির মাঝে পড়ে এখন ঝুলে রইল কোটি কোটি মহিলার অধিকার।

এডিটরের নোট: আজ রাত সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণই ঠিক করে দেবে দেশের রাজনীতির পরবর্তী মোড়। মোদী কি নতুন কোনো অর্ডিন্যান্স আনবেন, না কি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করবেন? নজর রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এ।