মোদি জমানায় প্রথম হার! লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল বিল, বিজেপিকে তুলোধনা প্রিয়াঙ্কার

নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক দশকের শাসনামলে এই প্রথম সংসদীয় ভোটাভুটিতে বড়সড় পরাজয়ের স্বাদ পেল এনডিএ (NDA)। মহিলা সংরক্ষণকে সামনে রেখে আনা সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে শাসক জোট। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর শনিবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সাফ জানালেন, “বিজেপি সরকারকে আমরা বিশ্বাস করি না।”

সংসদে বিজেপির ‘প্রথম পরাজয়’

তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়ে মোদি সরকার চেয়েছিল সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাস করিয়ে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করতে। উদ্দেশ্য ছিল ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) করে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৫২ ভোট) না মেলায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০ ভোট।

বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ ফাঁস করলেন প্রিয়াঙ্কা

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেন, মহিলা সংরক্ষণ আসলে বিজেপির একটি ‘ঢাল’। তিনি বলেন:

  • আস্থার অভাব: “অসম ও জম্মু-কাশ্মীরে যেভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছে, তাতে শুধু বিজেপিই জিততে পারে। এমন সরকারকে আমরা কীভাবে বিশ্বাস করব?”

  • আসল উদ্দেশ্য: প্রিয়াঙ্কার দাবি, উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নির্বাচন নিজেদের দখলে রাখাই ছিল বিজেপির আসল লক্ষ্য।

  • ২০২৩-এর বিল কার্যকর হোক: প্রিয়াঙ্কা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “২০২৩ সালে যে বিল পাস হয়েছিল, তা এখনই কার্যকর করুন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না। মহিলাদের অধিকার এখনই দিন।”

গণতন্ত্রের জয় না কি বিশ্বাসঘাতকতা?

গতকাল সংসদে বিলটি পাস না হওয়াকে ‘গণতন্ত্রের বড় জয়’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছে বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোট। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের পর ফুঁসছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন কংগ্রেসকে ‘মহিলা-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

কেন পিছিয়ে গেল সরকার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১১ সালের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতে লোকসভার আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত। বিরোধীদের আশঙ্কা ছিল, এতে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে।

এডিটরের নোট: লোকসভায় এই পরাজয় মোদি সরকারের জন্য বড় এক ধাক্কা। বিরোধী জোটের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ২০২৯-এর রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।