আলুর দাম ১ টাকা আর বেকার ৩০ লক্ষ! বাংলার দুর্দশা নিয়ে ধূপগুড়িতে ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করলেন যোগী

“আমার সোনার বাংলা, তৃণমূল মুক্ত বাংলা”—শনিবার ধূপগুড়ির জনসভা থেকে এই লক্ষ্যেই রণহুঙ্কার ছাড়লেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় যোগীর নিশানায় ছিল তৃণমূলের ‘মাফিয়া রাজ’ এবং রাজ্যের বেহাল অর্থনৈতিক দশা। তাঁর সাফ কথা, বাংলার পরিস্থিতি বদলাতে হলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মতো ‘বুলডোজার’ নীতিও প্রয়োজন।
আলু থেকে ধান: কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে তোপ
ধূপগুড়ির কৃষকদের নাড়ি চপে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা যেখানে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা আলুর দর পান, সেখানে বাংলার কৃষকরা ১-১.৫ টাকার বেশি পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ:
-
বেকারত্ব: পশ্চিমবঙ্গে ৩০ লক্ষ যুবক কাজ হারিয়েছেন, অথচ উত্তরপ্রদেশে ৩ কোটি তরুণকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
-
মাফিয়া রাজ: ধূপগুড়ির বালি মাফিয়াদের দাপট নিয়ে সরব হয়ে যোগী বলেন, মাফিয়াদের হাড়গোড় ভাঙতেই তাঁর রাজ্যে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়।
ইউপি মডেলে বাংলাকে ‘চাঙ্গা’ করার ডাক
নিজের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করে আদিত্যনাথ বলেন, “উত্তরপ্রদেশে এখন আর রাস্তায় নমাজ হয় না, মসজিদের আওয়াজ বাইরে আসে না। ইউপি মে না কারফিউ হ্যায়, না দাঙ্গা হ্যায়… ইউপি মে সব চাঙ্গা হ্যায়।” তাঁর দাবি, বাংলাতেও লাভ জিহাদ বা জমি জিহাদ বন্ধ করতে বিজেপির বিকল্প নেই।
তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ
এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মাথাভাঙার সভা সেরে ধূপগুড়িতে পৌঁছন যোগী। ২০ মিনিটের ঝোড়ো ভাষণে তিনি বারবার অনুপ্রবেশ ও কাটমানি ইস্যুতে রাজ্যকে বিঁধেছেন। তবে যোগীর এই সফরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোঁপের পাল্টাচাল, “যোগী আনুন বা রোগী, ধূপগুড়িতে তৃণমূল ছিল এবং তৃণমূলই থাকবে।”
আগামী ২৩ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। যোগীর এই ‘বুলডোজার’ দাওয়াই ধূপগুড়ির ভোটারদের মনে কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।