‘তৃণমূল হলো আরএসএস-এর ডিস্ট্যান্স ছাত্র’! ফেরানোর ডাক দিয়ে বোমা ফাটালেন শুভঙ্কর সরকার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলকে ভোট দেওয়া আর আরএসএস-কে সমর্থন করা কার্যত একই বিষয়। তাঁর মতে, রাজ্যে আসল লড়াই হবে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে, যেখানে তৃণমূল থাকবে অনেক পিছনে।

তৃণমূল-বিজেপি আসলে ‘একই স্কুলের ছাত্র’

আদর্শগত লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে শুভঙ্কর সরকার এক চাঞ্চল্যকর তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেন:

“আরএসএস-এর স্কুলের রেগুলার ছাত্র হলো বিজেপি, আর তৃণমূল হলো সেই স্কুলেরই ডিস্ট্যান্স এডুকেশনের ছাত্র। ফলে এদের যাকেই ভোট দেবেন, দিনশেষে সেটা আরএসএস-এর হাতই শক্ত করবে।”

‘উন্নয়ন হয়েছে শুধু কংগ্রেস আমলেই’

রাজ্যে গত ৪৮ বছর কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। এই দীর্ঘ সময়কে উন্নয়নের খরা বলে দাবি করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের যা কিছু পরিকাঠামো বা শিল্পোন্নয়ন, তা কংগ্রেস জমানাতেই হয়েছিল। নতুন ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিগত বছরগুলোতে বেকার সমস্যা বা শিল্প নিয়ে কোনো কাজ হয়নি, কেবল ইডি-সিবিআই অভিযান আর একে অপরকে গালিগালাজ নিয়েই রাজনীতি চলছে।

একলা চলো ও সরকার গড়ার দাবি

জোট প্রসঙ্গে শুভঙ্কর বাবু সাফ জানিয়ে দেন, সময়ের দাবি মেনে এবার কংগ্রেস একলা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি:

  • ২৯৪ আসনে লড়াই: একমাত্র কংগ্রেসই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে একক শক্তিতে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে।

  • বিজেপিই প্রধান প্রতিপক্ষ: তৃণমূলকে দৌড় থেকে কার্যত বাদ দিয়ে বিজেপিকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।

  • পরিবর্তনের আশা: শুভঙ্কর বাবুর দাবি, ৪ মে ভোটবাক্স খুললে দেখা যাবে বাংলার বহু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে এবং একক শক্তিতে কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

ভোটের আগে এই ‘আরএসএস’ কার্ড খেলে কংগ্রেস সংখ্যালঘু ও সেকুলার ভোটব্যাঙ্ককে কতটা নিজেদের দিকে টানতে পারে, এখন সেটাই দেখার। তবে শুভঙ্কর সরকারের এই আক্রমণ যে ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।