“বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে!” লোকসভায় বিল রুখে দিয়ে পাঁচলা থেকে গর্জালেন মমতা

দিল্লির মসনদে ফাটল ধরেছে, আর সেই ফাটল দিয়েই বিজেপির পতন শুরু হবে—শনিবার হাওড়ার পাঁচলা থেকে এভাবেই সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার লোকসভায় মোদী সরকারের সংবিধান সংশোধনী বিল (আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত) প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা না পেয়ে আটকে যাওয়ার পরেই চূড়ান্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তিনি।
🚫 “ওটা মহিলা বিল নয়, দেশ ভাগের নীল নকশা”
নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী সরকারের সদিচ্ছাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা বলেন, “ওটা আসলে কোনো মহিলা বিল ছিল না, ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল ওরা। এর মধ্যে বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তও লুকিয়ে ছিল।” ### 🔥 “মুখ চুনকালি মাখানো, এখন চুপসে গিয়েছে” বিজেপির একক গরিষ্ঠতা না থাকাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেত্রী কটাক্ষ করেন, “বিজেপি এখন অন্যের সাপোর্টে টিকে আছে। লোকসভায় গতকাল (শুক্রবার) আমরা ওদের পরাস্ত করে মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছি। এখন ওদের মুখগুলো চুনকালি মাখানো, একদম চুপসে গিয়েছে।” তাঁর অমোঘ বার্তা— “সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলেও সূর্যাস্ত করবে তৃণমূলই।”
🚺 নারীশক্তিতে বিজেপি বনাম তৃণমূল
মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে মহিলাদের অধিকার রক্ষায় তৃণমূলই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন:
-
পঞ্চায়েত ও পুরসভায় বাংলায় ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত।
-
তৃণমূলের লোকসভা সাংসদদের ৩৭ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা। বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলকে আইন এনে প্রচার করতে হয় না, তৃণমূল কাজ করে দেখায়।
⚠️ কর্মীদের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’
ভোট এবং গণনার দিন বিজেপি কারচুপি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “স্লো ভোটিং বা গণনার শুরুতে তৃণমূল হারছে বলে ভুল রটানো হতে পারে। একদম ভয় পাবেন না, বুথ আঁকড়ে পড়ে থাকুন। শেষ হাসি হাসবে জোড়াফুলই।”