ক্ষমতার ‘গেটওয়ে’ প্রেসিডেন্সি বিভাগ! ১১১ আসনের লড়াইয়ে কি এবার ভাঙবে তৃণমূলের লালদুর্গ?

বাংলার মসনদে বসার লড়াইয়ে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলো ‘প্রেসিডেন্সি বিভাগ’। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং নদিয়া—এই পাঁচ জেলার ১১১টি বিধানসভা আসনই ঠিক করে দেয় নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি তৃণমূলের সবথেকে বড় শক্তির উৎস। তবে ২০২৬-এর মহারণে এই গড় রক্ষায় মরিয়া মমতা, অন্যদিকে পদ্ম ফোটাতে সব শক্তি ঝরিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।
📊 পরিসংখ্যানের আয়নায় প্রেসিডেন্সি বিভাগ (১১১ আসন)
বিগত নির্বাচনগুলির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন এই অঞ্চলটি তৃণমূলের কাছে ‘লাইফলাইন’:
-
২০১১: টিএমসি + কংগ্রেস জোট পেয়েছিল ৮৯টি আসন।
-
২০১৬: টিএমসি একাই পায় ৯১টি আসন।
-
২০২১: বিজেপির ঝোড়ো প্রচার সত্ত্বেও টিএমসি রেকর্ড ৯৬টি আসন জিতে নেয়। বিজেপি পায় মাত্র ১৪টি আসন।
🎯 ২০২৪ লোকসভা: পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই ১১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল ৯০টিতে এগিয়ে থাকলেও, বিজেপি ২১টি কেন্দ্রে লিড পেয়েছে। বিশেষ করে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি তাদের ভোটের শতাংশ বাড়িয়ে নজর কেড়েছে। নদিয়ার ১৭টি আসনের মধ্যে ১১টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি।
⚔️ লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র: মতুয়া বনাম সংখ্যালঘু ভোট
প্রেসিডেন্সি বিভাগের লড়াই মূলত দুটি বড় ভোটব্যাঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে:
-
তৃণমূলের শক্তি: হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশাল মুসলিম জনসংখ্যা তৃণমূলের অটল ভোটার হিসেবে পরিচিত। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, সিএএ-এনআরসি আতঙ্কে মতুয়ারাও এবার তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকবেন।
-
বিজেপির রণকৌশল: নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া ভোট বিজেপির বড় ভরসা। এছাড়া ২০২৪-এ কলকাতা উত্তরেও বিজেপি দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে চমক দিয়েছে। রাহুল সিনহার দাবি, “এবার সমস্ত পুরনো হিসাব ভুল প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন।”
🏢 পাঁচ মুখ্যমন্ত্রীর রণক্ষেত্র
এই প্রেসিডেন্সি বিভাগের গুরুত্ব এতটাই যে এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বাংলার পাঁচজন মুখ্যমন্ত্রী। জ্যোতি বসু (বরানগর/সাতগাছিয়া), বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (কাশীপুর/যাদবপুর) থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ভবানীপুর)—বাংলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এই ১১১টি আসনের মাধ্যমেই।
🔮 ২০২৬-এর চমক কি তবে দক্ষিণবঙ্গে?
বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশন কড়াকড়ি করলে এবার হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তারা খাতা খুলবে। অন্যদিকে, তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী যে তাদের সাংগঠনিক শক্তি এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোয় প্রেসিডেন্সি বিভাগে তাদের রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব।