নাইট শিবিরে হাহাকার, তবু হার মানতে নারাজ রাহানে! গুজরাত ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে কোন বড় বার্তা দিলেন অধিনায়ক?

আইপিএলের চলতি মরসুমে টানা হার। ক্ষতবিক্ষত দল। মাঠের লড়াই থেকে পয়েন্ট টেবিল—সবখানেই ব্যাকফুটে কলকাতা নাইট রাইডার্স। যখন চারদিক থেকে সমালোচনার তির ধেয়ে আসছে, ঠিক তখনই দলের হাল ধরতে মরিয়া অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে পঞ্চম হারের দগদগে ঘা নিয়ে সতীর্থদের সমালোচনা নয়, বরং ইতিবাচক মন্ত্রে চাঙ্গা করছেন ক্যাপ্টেন কুল।

🛡️ ‘অনভিজ্ঞ’ বোলারদের পিঠ চাপড়াচ্ছেন ক্যাপ্টেন

গুজরাত টাইটান্সের কাছে ম্যাচ হারলেও দলের তরুণ ও অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ রাহানে। যেভাবে ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাকেই প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। রাহানের কথায়, “হার বা জিত যাই হোক, প্রতিটি ম্যাচ আমাদের নতুন কিছু শেখায়। গত পাঁচ ম্যাচে একটা জিনিসই বুঝেছি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো জেতা জরুরি। একটি ভালো বা খারাপ ওভার টি-২০-র মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত সেই মুহূর্তগুলো আমাদের পক্ষে যাচ্ছে না, কিন্তু লড়াই আমরা থামাব না।”

🏏 গ্রিন-ঝড়ে আশার আলো

টাইটান্স ম্যাচে ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটিং ছিল কেকেআর-এর অন্ধকার ঘরে একমাত্র প্রদীপ। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়লেও গ্রিনের ঝোড়ো ইনিংসই দলকে ১৮০ রানে পৌঁছে দিয়েছিল। রাহানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ২০০ রান না হলেও গ্রিনের কৃতিত্ব কোনো অংশে কম নয়।

🌌 ২০১৪-র রূপকথার প্রত্যাবর্তনই কি এখন অক্সিজেন?

পরিসংখ্যান বলছে, এক যুগ আগে ২০১৪ সালে ঠিক এভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল গৌতম গম্ভীরের কেকেআর। সেবারও প্রথম ভাগে টানা হারের পর প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস লিখে টানা ৯ ম্যাচ জিতে ট্রফি তুলেছিল তারা। সেই স্মৃতিই কি এখন রাহানেদের রসদ?

অধিনায়কের কন্ঠে শোনা গেল দৃঢ় প্রত্যয়— “আশা রাখতে ক্ষতি কী? নেতিবাচক না ভেবে ইতিবাচক থাকাই শ্রেয়। তবে খুব বেশি দূরের কথা না ভেবে, ম্যাচ ধরে ধরে এগোনোই আমাদের লক্ষ্য। সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই এখন একমাত্র কাজ।”

⚔️ সামনে রাজস্থান চ্যালেঞ্জ

শনিবার গুজরাত থেকে কলকাতায় পা রেখেছে ‘রাহানে অ্যান্ড কোম্পানি’। হাতে একদম সময় নেই। রবিবারই ইডেনের বাইশ গজে মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী রাজস্থান রয়্যালসের। বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল ও রবীন্দ্র জাদেজাদের মতো ফর্মে থাকা তারকাদের আটকাতে পারবে কি ছন্নছাড়া নাইটরা? উত্তরের অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ বেগুনি সমর্থক।