“আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করেছি!” লোকসভায় মোদী সরকারের হারকে ‘বিরাট জয়’ আখ্যা দিলেন শশী থারুর: কেন ভোট দিলেন না বিরোধীরা?

লোকসভায় ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। আর এই ঘটনাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে বিরোধী শিবির। ভোটাভুটির পর কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা তথা সাংসদ শশী থারুর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নয়, বরং সংরক্ষণের সঙ্গে ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন বৃদ্ধির বিষয়টি জুড়ে দেওয়ার যে কৌশল কেন্দ্র নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।

৫২ ভোটের ঐতিহাসিক ব্যবধান শুক্রবার লোকসভায় বিলটির পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৫২টি ভোট)। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫২টি ভোট কম পাওয়ায় বিলটি খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে স্বপ্ন কেন্দ্র দেখেছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খেল।

থারুরের বিস্ফোরক যুক্তি বিল আটকে যাওয়ার পর শশী থারুর এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন:

“এটি মহিলাদের সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ভোট নয়, বরং ডিলিমিটেশন এবং এর মাধ্যমে সংসদের আসন সংখ্যা হঠাৎ বাড়ানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোট। আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিরোধীদের প্রধান দাবি শশী থারুর আরও জানান যে, বিরোধীরা শুরু থেকেই এই বিলের একটি বিশেষ শর্ত নিয়ে আপত্তিতে সরব ছিল। তিনি বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম, যদি মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ডিলিমিটেশন থেকে আলাদা করা হয়, তবে আমরা তা সমর্থন করব। কিন্তু বিজেপি সরকার তা আলাদা করতে অস্বীকার করায় আমরা বিরোধিতা করতে বাধ্য হয়েছি।”

কেন একজোট বিরোধীরা? কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করেই ২০২৯ সালের নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল— সংরক্ষণের জন্য আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কী প্রয়োজন? বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট করার রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে বিজেপির। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বারবার আবেদনের পরেও নতিস্বীকার করেনি বিরোধীরা।

Samrat Das
  • Samrat Das