“এটা গণতন্ত্র নয়, স্বৈরাচার!” মন্ত্রীর বাড়িতে ইডি হানা দিতেই রণংদেহি মেজাজে আপ; কেজরিওয়ালের প্রশ্নে তোলপাড় দেশ

পাঞ্জাবের ক্যাবিনেট মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরার বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র আচমকা হানা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল চণ্ডীগড়ের রাজনীতি। এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি জনগণের সমর্থনে নয়, বরং ইডি ও সিবিআই-এর জোরে নির্বাচনে জিততে চাইছে।
“অভিযোগ প্রমাণের মুরোদ নেই, শুধু জেল!” মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরার বাড়িতে অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, “বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের ৯০ শতাংশ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের জেলে পাঠানো হলেও এখনও পর্যন্ত একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি তারা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইডি-র মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আদতে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কার্যত স্বৈরাচারের লক্ষণ।
২০২৭ নির্বাচনের প্রস্তুতি না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? বিদ্যুৎমন্ত্রী সঞ্জীব অরোরা লুধিয়ানা উপনির্বাচনে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মানের দাবি:
“বিজেপি ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই ভয় পেয়ে গেছে। নির্বাচনে লড়ার জন্য তারা ১১৭ জন প্রার্থীও খুঁজে পাচ্ছে না, তাই ইডি-কে হাতিয়ার করে আমাদের আটকানোর চেষ্টা করছে।”
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কড়া প্রশ্ন ইডির এই অভিযানের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তিন দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আমাদের নেতাদের বাড়িতে হানা দিল ইডি। কিন্তু দেশবাসীকে কি তারা বলতে পারবে ঠিক কত টাকা উদ্ধার হয়েছে? এক টাকাও কি পাওয়া গেছে?” কেজরিওয়ালের দাবি, ক্ষমতার জন্য বিজেপি যে ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই লক্ষ্য করছে।
তপ্ত পাঞ্জাব রাজনীতি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইডি অভিযান এবং পাল্টাপাল্টি বাক্যবাণ পাঞ্জাবের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে তাঁদের লড়াই থামানো যাবে না।