‘বৌ-কে একঘেয়ে লাগছে?’-সেনার এমন বিজ্ঞাপনে তাজ্জব দুনিয়া, নেপথ্যে যে কারণ?

বাঙালির চিরন্তন ক্লাসিক ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর রজনী চাটুজ্যে তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন, “তুমি হলে আমার খেজুর গাছ, কাঁটা আছে ছায়া নেই।” রজনীবাবুর সেই আক্ষেপ আজ সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে সুদূর থাইল্যান্ডে। তবে তফাত শুধু এক জায়গায়— রজনীবাবু ঘর ছাড়তে পারেননি, কিন্তু থাই যুবকদের ঘর ছাড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী!

“স্ত্রীকে নিয়ে ক্লান্ত? সেনায় আসুন!” সম্প্রতি রয়্যাল থাই আর্মি (Royal Thai Army) একটি নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে কার্যত নেট দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিজ্ঞাপনে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “স্ত্রীকে নিয়ে ক্লান্ত? একঘেয়ে লাগছে কি? তবে এই এপ্রিল মাসেই চলে আসুন, যোগ দিন সেনাবাহিনীতে।” সেনার মতো এমন এক গম্ভীর প্রতিষ্ঠানের এই রসিক মিম দেখে হাসি থামছে না কারোরই। অনেকে তো বলছেন, “স্ত্রীর রক্তচক্ষুর চেয়ে সেনার ব্যারাক অনেক বেশি নিরাপদ!”

কেন এই রসিকতা? থাইল্যান্ডে ২১ বছর বয়স হলে সেনায় যোগ দেওয়া আংশিক বাধ্যতামূলক। সেখানে লটারির মাধ্যমে ঠিক হয় কে সেনায় যাবে আর কে যাবে না। লাল কার্ড উঠলে সেনায় যোগ দেওয়া মাস্ট, আর কালো কার্ড উঠলে মুক্তি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে লটারির অপেক্ষা না করে প্রায় ৫০ হাজার যুবক স্বেচ্ছায় সেনায় নাম লিখিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এই হার প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।

আসল কারণ কি শুধুই দাম্পত্য? রসিকতা সরিয়ে রাখলে এই আবেদনের পাহাড়ের পিছনে রয়েছে থাইল্যান্ডের করুণ অর্থনৈতিক ছবি।

  • চাকরির অভাব: পর্যটন ও কৃষিনির্ভর এই দেশে শিক্ষিত যুবকদের জন্য কাজের বড় অভাব।

  • আকর্ষণীয় বেতন: সেনায় যোগ দিলেই মাসে ১১ হাজার ভাট (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২,৫০০ টাকা) বেতন পাওয়া যাচ্ছে।

  • বিনামূল্যে সুবিধা: থাকা ও খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি।

তাই বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলতে থাকা যুবকদের কাছে সেনা এখন ‘সেফ অপশন’। ২৩ বছরের তরুণ ক্রিসানা ফুলং যেমন লটারির ঝুঁকি না নিয়ে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন বাড়ির কাছের ক্যাম্পে।

দাম্পত্য কি আসলেই রণক্ষেত্র? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাই সেনাবাহিনী মিম শেয়ার করে বলছে, “প্রশিক্ষণ ডিসিপ্লিন শেখাবে, আর সেনার থেকে মিলবে বোনের মতো ভালোবাসা।” তবে সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন অন্য কথা। সংসার যতই ছোটখাটো খুনসুটি আর বিবাদে ভরা হোক না কেন, দিনশেষে সেই ‘খেজুর গাছে’র ছায়াই হয়তো অনেক বেশি শীতল। রজনী চাটুজ্যের আক্ষেপের পিছনে যেমন গভীর ভালোবাসা ছিল, সেনার বুটের শব্দে কি আর সেই টান পাওয়া যাবে?

সেনার ব্যারাকে শৃঙ্খলা মিলবে ঠিকই, কিন্তু দাম্পত্যের ছোট ছোট টানাপড়েন যে আসল জীবনের রণক্ষেত্র জয় করতে শেখায়, তা হয়তো রয়্যাল থাই আর্মির বিজ্ঞাপনের ধরাছোঁয়ার বাইরে!