রাহুল গান্ধী কি ব্রিটেনের নাগরিক? এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে তোলপাড় দেশ, বিপাকে বিরোধী দলনেতা!

নির্বাচনের মুখে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার এক নতুন মোড় নিল। রাহুল গান্ধীর ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ বা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এফআইআর (FIR) দায়েরের নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, রাজ্য সরকার চাইলে নিজেই এই তদন্ত করতে পারে অথবা বিষয়টি কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (যেমন সিবিআই) হাতে তুলে দিতে পারে।

মামলার নেপথ্যে কী? বিজেপি কর্মী এস বিঘ্নেশ শিশির এই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল:

  • ব্রিটেন-ভিত্তিক একটি কোম্পানির নথিপত্রে রাহুল গান্ধীকে ‘ব্রিটিশ নাগরিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • দাপ্তরিক নথিপত্রে তিনি লন্ডনের একটি ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ।

এর আগে লখনউয়ের বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালত এই আর্জি খারিজ করে দিলেও, হাইকোর্ট জানিয়েছে যে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কেন এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর? ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ রাখার অধিকার নেই। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তির অন্য দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে, তবে তিনি ভারতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না এবং তাঁর সাংসদ পদও খারিজ হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল কংগ্রেসের জন্য নয়, বরং গোটা ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) জোটের জন্যই বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আইনি লড়াই যে দিল্লির রাজনীতিকে তপ্ত রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।

Samrat Das
  • Samrat Das