নন্দীগ্রামে হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মাঝে বড় ‘স্বস্তি’ পবিত্রর! হাইকোর্টের রায়ে কি ফিকে হলো বিজেপির চাল?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। আর সেই কেন্দ্রেই বিজেপি হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর পেলেন বড়সড় আইনি স্বস্তি। হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের নির্দেশ: বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে পবিত্র করের আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত পবিত্র করের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে এই ‘রক্ষাকবচ’ মিললেও তদন্তে কোনো বাধা দেয়নি আদালত। অর্থাৎ, পুলিশি তদন্ত চলবে এবং পবিত্র বাবুকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৪ এপ্রিল।
কী ছিল অভিযোগ? গত ৭ এপ্রিল নন্দীগ্রামের কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা বুদ্ধদেব গিরি অভিযোগ করেন যে, ৬ এপ্রিল পবিত্র কর তাঁর দলবল নিয়ে যাওয়ার সময় বুদ্ধদেবকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেন। বুদ্ধদেব অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর ও ছিনতাই করা হয় বলে দাবি করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পবিত্র করসহ চারজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল।
নন্দীগ্রামে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’: একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেই এবার লড়াই পবিত্রর। নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র পবিত্রকে প্রার্থী করে তৃণমূল এই কেন্দ্রে বড় চমক দিয়েছে। ভোটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়াকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই দেখছিল ঘাসফুল শিবির। হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে পবিত্র কর অনেকটা নিশ্চিন্তে ময়দানে নামতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপি ভয় পেয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে প্রার্থীকে আটকাতে চেয়েছিল, কিন্তু আদালত সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল। অন্যদিকে, ২৪ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।