“চশমা পরলেই চেনা যাবে যে কাউকে!”-মেটার নতুন ‘স্মার্ট চশমা’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!

কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার মতো চশমা চোখে দিলেই সামনের মানুষটির নাম-ঠিকানা সব ভেসে উঠবে—এমন প্রযুক্তি আনছে মেটা। কিন্তু ‘নেইম ট্যাগ’ (Name Tag) নামক এই ফেশিয়াল রিকগনিশন বা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ঘিরেই দানা বাঁধছে চরম বিতর্ক। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে দাবি করে মার্ক জাকারবার্গের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে ৭০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।
বিপজ্জনক এই প্রযুক্তি আসলে কী?
মেটার এই স্মার্ট চশমায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি, যা চশমার সামনে থাকা ব্যক্তির চেহারা স্ক্যান করে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ও ব্যক্তিগত তথ্য মুহূর্তেই ব্যবহারকারীর চোখের সামনের ডিসপ্লেতে তুলে ধরবে। এতে ব্যবহারকারী রাস্তার কোনো অপরিচিত ব্যক্তির শখ, স্বাস্থ্য বা সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন—যা প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মানবাধিকার সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ
‘এসিএলইউ’ এবং ‘অ্যাকসেস নাও’-সহ বড় বড় সংগঠনগুলো জাকারবার্গের কাছে পাঠানো চিঠিতে এই ফিচারটি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তিগুলো হলো:
-
অপরাধীদের হাতিয়ার: এই প্রযুক্তি স্টকার, যৌন নিপীড়ক বা প্রতারকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। তারা খুব সহজেই কাউকে টার্গেট করে তার পিছু নিতে পারবে।
-
সম্মতিহীন নজরদারি: আশপাশের মানুষ টেরই পাবেন না যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
-
গোপন অভিসন্ধি: অভিযোগ উঠেছে, মেটা এমন এক সময়ে এটি বাজারে আনতে চেয়েছিল যখন বিশ্ববাসী অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যস্ত থাকবে, যাতে কারো নজর না পড়ে।
মেটার আত্মপক্ষ সমর্থন
সমালোচনার মুখে মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিযোগীরা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও মেটা এখনও তা করেনি। ভবিষ্যতে এমন কিছু চালু করার আগে তারা যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করবেন। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। ২০২১ সালেও তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফেসবুকের ‘ফটো-ট্যাগিং’ সিস্টেম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল মেটা। এছাড়া বায়োমেট্রিক প্রাইভেসি লঙ্ঘনের দায়ে ইতিমধ্যে কয়েকশ কোটি ডলার জরিমানাও গুনেছে কোম্পানিটি।
অ্যাকাউন্ট ডিলিট করার হিড়িক পড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রযুক্তি চালু হয়, তবে মানুষ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে গণহারে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে শুরু করতে পারে। কারণ মেটা অ্যাকাউন্ট থাকলেই কেবল এই চশমা কাউকে শনাক্ত করতে পারবে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতা কি শেষ পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি গোপন কোণকে জনসমক্ষে নিয়ে আসবে? এই প্রশ্নই এখন বিশ্বজুড়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।