উত্তম কুমারের জন্য তৈরি গান কেড়ে নিয়েছিলেন আরতি মুখোপাধ্যায়? ‘এই মোম জোছনায়’-এর আসল ইতিহাস ফাঁস!

বাঙালির ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে এফএম রেডিও— আজও যে গানটি বাজলে মন উদাস হয়ে যায়, সেটি হল আরতি মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘এই মোম জোছনায়’। কিন্তু এই কালজয়ী রোমান্টিক গানের নেপথ্যে যে এক অদ্ভুত ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি ‘টিভিনাইন বাংলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই গোপন গল্প শোনালেন স্বয়ং গায়িকা।

উত্তম কুমারের আড্ডায় জন্ম নিয়েছিল এই গান!
আরতি মুখোপাধ্যায় জানান, এই গানটি তিনি প্রথম শুনেছিলেন কোনো স্টুডিওতে নয়, বরং মহানায়ক উত্তম কুমারের কণ্ঠে। গায়িকার স্মৃতিচারণায়:

“শিল্পী সংসদের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি হারমোনিয়াম বাজিয়ে এই গানটি গাইছেন উত্তমবাবু। পাশে সুপ্রিয়া দেবী বসে আছেন, আর মাঝে মাঝে আদুরে গলায় যোগ করছেন— ‘এসো না গল্প করি’। গানটা শুনেই আমার মন ভরে গিয়েছিল।”

নচিকেতা ঘোষের মৃত্যু ও অনিশ্চয়তা
গানের সুরকার ছিলেন নচিকেতা ঘোষ। আরতি তখনই আবদার করেছিলেন গানটি গাওয়ার জন্য। সুরকার কথা দিয়েছিলেন গানটি আরতির জন্যই থাকবে। কিন্তু হঠাৎ করেই নচিকেতা ঘোষ প্রয়াত হন এবং গায়িকা মুম্বই চলে যান। এদিকে উত্তম কুমার নিজেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানটি রেকর্ড করে ফেলেন। আরতি ভেবেছিলেন, গানটি বোধহয় আর তাঁর গাওয়া হল না।

“গানটা আমার কপালে ছিল!”
কলকাতায় ফিরে পুজোর গানের খোঁজে আরতি যোগাযোগ করেন নচিকেতা ঘোষের পুত্র সুবর্ণ কান্তি ঘোষের (খোকা) সঙ্গে। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের অসাধারণ সেই লিরিক্স আর নচিকেতা ঘোষের সুর— সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আরতির কণ্ঠেই রেকর্ড হয় ‘এই মোম জোছনায়’।

রেকর্ড বেরোতেই আকাশছোঁয়া সাফল্য পায় গানটি। আরতি মুখোপাধ্যায় আবেগের সঙ্গে বলেন:

“আমি সব সময় মনে করি, এই গানটা আমার কপালে ছিল। না হলে এত প্রতিকূলতার পরও গানটা গাওয়ার সুযোগ পেতাম না। উত্তমবাবুও কোনো আপত্তি করেননি। আজ ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঁর রেকর্ড করা ভার্সনটিও শোনা যায়।”