“ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ অসাংবিধানিক”, বিরোধীদের কড়া জবাব অমিত শাহের! তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই

সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনেই যেন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লোকসভা। একদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার চেষ্টা সরকারের, অন্যদিকে ‘সংবিধান বাঁচাও’ স্লোগানে সরব বিরোধীরা। আসন পুনর্বিন্যাস থেকে শুরু করে ওবিসি কোটা— একাধিক ইস্যুতে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বে কার্যত অচল হওয়ার জোগাড় সংসদ ভবন।

সমাজবাদী পার্টির হুঁশিয়ারি: ‘কোটার ভেতর কোটা’ চাই
অধিবেশন শুরু হতেই সপা সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব তাঁর নেতা অখিলেশ যাদবের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। সমাজবাদী পার্টির সাফ কথা:

মহিলা সংরক্ষণ বিলকে তারা তখনই সমর্থন করবে, যদি সেখানে ওবিসি এবং মুসলিম মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে।

বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার আদতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

সপার দাবি, জনগণনার তথ্য ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব খর্ব হবে।

“আগে বিলটা পড়ুন!”— বিরোধীদের ধমক অমিত শাহের
বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই পালটা সুর চড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুরুতেই বিলের বিরোধিতা করায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন:

“বিলে কী আছে তা না বুঝেই কেন বিরোধিতা করা হচ্ছে? সরকার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। আগে বিলটি ভালোভাবে পড়া উচিত।”

ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণে ‘না’, জাতিভিত্তিক তথ্যে ‘হ্যাঁ’
এদিন ভাষণে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:
১. জনগণনা ও জাতিভিত্তিক তথ্য: শাহ জানান, জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে এবং তাতে জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ দেবে।
২. অসাংবিধানিক দাবি: বিরোধীদের ‘মুসলিম কোটার’ দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে তিনি স্পষ্ট বলেন যে, ভারতীয় সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না। তাই এই দাবি পুরোপুরি অসাংবিধানিক।

রাজনীতির অলিন্দে কেন এই সংঘাত?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশেষ অধিবেশন আসলে আগামী নির্বাচনের সলতে পাকানো। সরকার যেখানে মহিলা সংরক্ষণকে তুরুপের তাস করতে চাইছে, সেখানে বিরোধী পক্ষ ‘ওবিসি কার্ড’ খেলে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।