পাঞ্জাবে নারীদের জয়জয়কার! প্রতি মাসে মিলবে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত সাহায্য; ঐতিহাসিক ‘মাওয়াঁ-ধিয়াঁ সতিকার যোজনা’র সূচনা মান সরকারের।

বাবা সাহেবের জন্মবার্ষিকীতে বড় উপহার: পাঞ্জাবের নারীদের জন্য ‘মাওয়াঁ-ধিয়াঁ সতিকার যোজনা’, জুলাই থেকে মিলবে মাসিক ভাতা
জলন্ধর, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬: বাবা সাহেব আম্বেদকরের সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারী ক্ষমতায়নের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। পাঞ্জাব সরকারের নতুন প্রকল্প ‘মাওয়াঁ-ধিয়াঁ সতিকার যোজনা’-র মাধ্যমে এখন থেকে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নারী প্রতি মাসে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।
কারা কত টাকা পাবেন?
এই প্রকল্পের অধীনে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ভাগে:
-
তফসিলি জাতিভুক্ত (SC) নারী: প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা।
-
অন্যান্য সাধারণ নারী: প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ নারী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা উদ্যোগ।
কবে থেকে শুরু হবে টাকা দেওয়া?
-
নিবন্ধন শুরু: আজ থেকেই রাজ্যের ৯টি নির্বাচনী এলাকায় (আদমপুর, মালৌত, আনন্দপুর সাহেব ইত্যাদি) পরীক্ষামূলকভাবে নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
-
পুরোদমে কাজ: আগামী ১৫ই মে থেকে বাকি ১০৮টি নির্বাচনী এলাকায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
-
টাকা প্রদান: ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো শুরু হবে।
বিশেষ সুবিধা: নিবন্ধনের কোনো শেষ সময়সীমা নেই। কোনো নারী যদি সেপ্টেম্বর মাসেও নাম নথিভুক্ত করেন, তবে তিনি জুলাই মাস থেকে বকেয়া সমস্ত টাকা একসাথেই পাবেন।
নিবন্ধনের জন্য মাত্র ৩টি নথি
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সহজ নথি প্রক্রিয়ার ঘোষণা করেছেন। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন:
-
পাঞ্জাবের ঠিকানাসহ আধার কার্ড।
-
পাঞ্জাবের বৈধ ভোটার আইডি।
-
ব্যাংক পাসবুক। (তফসিলি জাতিভুক্তদের ক্ষেত্রে জাতিগত শংসাপত্র প্রয়োজন। তবে সার্টিফিকেট না থাকলেও আপাতত ১,০০০ টাকার জন্য আবেদন করা যাবে এবং সার্টিফিকেট জমা দিলে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।)
দোরগোড়ায় পরিষেবা: ‘মহিলা সতিকার সখী’
নারীদের যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে না হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেছেন ‘মহিলা সতিকার সখী’।
-
তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ ও নথি গুছিয়ে দেবেন।
-
ভোটার আইডি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে তা তৈরিতেও সাহায্য করবেন।
-
এছাড়া অঙ্গনওয়াড়ি ও সেবা কেন্দ্র মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ২৬,০০০-এরও বেশি নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
বাজেটে বিশাল বরাদ্দ
এই প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ইতিমধ্য়েই ৯,৩০০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের মতে, এটি কেবল একটি যোজনা নয়, বরং নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সম্মানের এক নতুন দিগন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ নেতা মণীশ সিসোদিয়া সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে হরবন্স কৌর ও দীক্ষার মতো সুবিধাভোগীদের হাতে নিবন্ধন শংসাপত্র তুলে দিয়ে এই কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন।