সংসদে মোদির সামনে খাড়গের চ্যালেঞ্জ! মহিলা সংরক্ষণে কি তবে বড় বাধা ‘ইন্ডিয়া’ জোট? উত্তাল রাজনীতি!

চৈত্র সংক্রান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বৈশাখের কালবৈশাখী! বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই মোদি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি তবে বিরোধীদের আপত্তিতে থমকে যাবে? তুঙ্গে জল্পনা।
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত? দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এক মেগা বৈঠকে বুধবার হাজির ছিলেন জোটের হেভিওয়েট নেতারা। দীর্ঘ আলোচনার পর জোটের সুর স্পষ্ট— তারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নয়, কিন্তু বিলের মধ্যে লুকোনো ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাসের “বিষে” ঘোর আপত্তি।
বিরোধীদের প্রধান ৩টি পয়েন্ট:
-
কংগ্রেসের যুক্তি: খাড়গে সাফ জানিয়েছেন, ২০১০ বা ২০২৩— কংগ্রেস সবসময়ই মহিলা সংরক্ষণের পাশে ছিল। কিন্তু এবার কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে এর সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত জুড়ে দিয়ে জট পাকাচ্ছে।
-
রাজনৈতিক চাল: বিরোধীদের দাবি, এই ডিলিমিটেশন আসলে একটি রাজনৈতিক চাল। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়লে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত।
-
এককাট্টা জোট: সাংবাদিক সম্মেলনে খাড়গে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা এককাট্টা। আলাদাভাবে আলোচনা না করে হঠাৎ করে ডিলিমিটেশন চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের অপমান।”
অঙ্কের হিসাবে কি বিল আটকে যাবে?
এই বিল পাশ করার জন্য সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
-
লোকসভা: বিরোধীদের (কংগ্রেস, তৃণমূল, সপা, ডিএমকে) মিলিত ভোট যদি বিপক্ষে যায়, তবে প্রয়োজনীয় ৩৬৪টি ভোট জোগাড় করা এনডিএ-র জন্য পাহাড় প্রমাণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
-
সংশয়: খাড়গের এই রণকৌশল যদি সফল হয়, তবে মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৯-এর আগে বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।
এডিটরস ভিউ: বিশেষ অধিবেশনে এই জোড়া বিল নিয়ে যে এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না কোনো পক্ষই, তা খাড়গের হুঁশিয়ারিতেই স্পষ্ট। একদিকে মহিলা ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা কেন্দ্রের, অন্যদিকে সেই বিলের ‘টেকনিক্যাল’ খামতি ধরিয়ে দিয়ে জনমত গড়ার মরিয়া চেষ্টা বিরোধীদের। কে জিতবে এই লড়াইয়ে?