বরেলিতে ‘হলুদ পাঞ্জার’ আতঙ্ক! ১০০টি দোকানের পর এবার বুলডোজারের টার্গেটে স্কুল ও কবরস্থান?

উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে আবারও দেখা মিলল ‘হলুদ পাঞ্জার’ দাপট। মুখ্যমন্ত্রী গ্রিড যোজনার অধীনে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ শুরু হতেই বরেলির কোহাড়াপীর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই রাস্তার একপাশের প্রায় ১০০টি দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার প্রশাসনের নজর রাস্তার অপর প্রান্তে, যেখানে আরও শতাধিক দোকান এবং নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের তালিকায় রয়েছে।
লাল নিশান পড়ল স্কুল ও কবরস্থানেও
পুরনিগমের পক্ষ থেকে চালানো এই অভিযানে এবার রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। গুলাব রায় ইন্টার কলেজ এবং কেডিএম ইন্টার কলেজের একাংশ জবরদখলের তালিকায় পড়ায় সেখানে প্রশাসনের তরফে ‘লাল নিশান’ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কবরস্থানের জমিতে তৈরি বেশ কিছু দোকান এবং ওয়াকফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত দুটি দোকানকেও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পুরনিগমের কড়া হুঁশিয়ারি: খরচ দিতে হবে মালিককেই!
পুরনিগমের পরিবেশ বাস্তুকার রাজীব রাঠী জানিয়েছেন, জবরদখলকারীদের আগামী ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন:
-
নিজে থেকে সরান: ৭ দিনের মধ্যে যদি মালিকরা দোকান না সরান, তবে পুরনিগম বুলডোজার দিয়ে তা ভেঙে দেবে।
-
জরিমানা ও খরচ: বুলডোজার চালানোর সমস্ত খরচ ওই সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
ব্যবসায়ীদের হাহাকার: “যাব কোথায়?”
টিভি৯-এর প্রতিনিধি যখন গ্রাউন্ড জিরোতে পৌঁছান, তখন চারদিকে কেবল কান্নার রোল এবং আতঙ্ক দেখা গেছে। অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। হুট করে এই উচ্ছেদ নোটিশ তাঁদের রুটি-রুজির ওপর বড় আঘাত এনেছে। ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, কবরস্থানের পাশে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে তিনি সংসার টানতেন। এখন দোকান ভেঙে দিলে পরিবারের মুখে অন্ন উঠবে কীভাবে, তা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না তিনি।