নয়ডায় দ্বিতীয় দিনেও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! পুলিশের ওপর পাথরবৃষ্টি শ্রমিকদের, আসরে নামল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নয়ডার সেক্টর ৮০ এলাকা। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ব্যাপক খণ্ডযুদ্ধ বাধে, রণক্লান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ ও পাথরবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে এলাকা ফাঁকা করে দেয় পুলিশ। শ্রমিকদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০,০০০ টাকা করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, ভাতা বৃদ্ধি এড়াতে ৯ মাস অন্তর ছাঁটাই করা হচ্ছে এবং দক্ষ শ্রমিকদেরও অদক্ষদের সমান মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

টানা দ্বিতীয় দিনে পড়া এই বিক্ষোভে সোমবারের হিংসার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৩০০ জনেরও বেশি জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় আরআরএফ (RRF), র‍্যাফ (RAF) এবং পিএসি-র ১৫টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে চলছে আকাশপথে নজরদারি। সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটাতে এলাকা জুড়ে ফ্ল্যাগ মার্চ করছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। খোদ ডিজিপি এবং এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা সরাসরি পরিস্থিতির তদারকি করছেন।

ডিজিটাল মাধ্যমেও এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দুটি এক্স (X) হ্যান্ডেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তৈরি হওয়া ৫০টির বেশি সন্দেহজনক ‘বট অ্যাকাউন্ট’ (Bot Accounts) চিহ্নিত করেছে সাইবার সেল। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করবে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ইউপি পুলিশের ডিজিপি কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, হিংসা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্তদের সম্পত্তি থেকেই সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।