ইরানকে ভাতে মারতে ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘রণংদেহি’ অভিযান শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের দামামা। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াত করা সমস্ত জাহাজের ওপর কঠোর মার্কিন অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তান আলোচনায় কোনো সমাধান না আসায় এবং ইরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কোনো ‘হামলাকারী জাহাজ’ যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে, তবে মুহূর্তের মধ্যে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানকে টোল দিয়ে যেসকল জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের চেষ্টা করবে, মার্কিন নৌবাহিনী সেগুলোকে খুঁজে বের করে বাধা দেবে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, ইরান ওই অঞ্চলে মাইন পুঁতে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করছে।

অবরোধের কার্যকারিতা ও কৌশল:
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত জাহাজকে প্রতিহত করা। ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরে অবস্থিত ইরানের সমস্ত বন্দর এই অবরোধের আওতায় থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, ইরান বাদে অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের স্বাধীন চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ও মিত্রদের অবস্থান:
শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ। ইরান এই সংকীর্ণ জলপথ ব্যবহার করে বাছাই করা জাহাজের কাছ থেকে বিশাল অংকের টোল আদায় করছিল, যা তাদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সেই আয়ের পথ বন্ধ হতে চলেছে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য মার্কিন এই অবরোধে সরাসরি যোগ না দিলেও মাইন অপসারণ অভিযানে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।