বর্ষায় ঘোর সংকট! ধেয়ে আসছে ‘এল নিনো’, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আকাল ও চরম গরমের পূর্বাভাস

চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ঘণ্টা বাজতেই বাংলার আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ নয়, বরং চরম রোদের দহনকাল ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস রাজ্যবাসীর দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে যে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম হতে পারে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষার মরশুম থাকলেও, এবার সেই হিসেবে বড়সড় গরমিল হতে চলেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার ফলে জন্ম নিচ্ছে ‘এল নিনো’। এই এল নিনোর সক্রিয়তার কারণেই সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত ৫০ বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৮৭ সেন্টিমিটার, যা এবার ছোঁওয়া কঠিন হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের নাজেহাল পরিস্থিতি:
দক্ষিণবঙ্গে ইতিমিধ্যেই চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার প্রভাবে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আর্দ্রতা ও গরমের অস্বস্তি চরমে উঠবে। আগামী তিন দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। যদিও ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা গরম কমাতে বিশেষ কার্যকর হবে না। ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ফের শুষ্ক ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পুড়বে দক্ষিণবঙ্গ।

উত্তরবঙ্গের হালহকিকত:
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি-সহ ওপরের পাঁচটি জেলায় সপ্তাহজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, ধীরে ধীরে সেখানেও বৃষ্টি কমবে এবং গরম বাড়তে শুরু করবে। সোমবার কলকাতার তাপমাত্রা ছিল ৩৪.০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে বাতাসে ৯১ শতাংশ আর্দ্রতা থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সব মিলিয়ে, বর্ষার ঘাটতি আর এল নিনোর প্রকোপে আগামী বছরটি বাংলার কৃষিকাজ ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।