বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মোড়! ব্যর্থ ইসলামাবাদ বৈঠক, এবার আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী পুতিন?

ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধামাকা! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে পুতিন স্পষ্ট জানান, তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সংঘাত মেটাতে প্রস্তুত।
ইসলামাবাদে ঠিক কী হয়েছিল?
দীর্ঘ কয়েক দশক পর ১৯৭৯-এর পর এই প্রথম ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসেছিল আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধি দল। টানা কয়েক দফায় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, তেহরানের অভিযোগ— আমেরিকা তাদের আস্থা অর্জন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
সংঘাতের মূল তিনটি কাঁটা:
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি প্রধান ইস্যু: ১. ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি। ২. হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য। ৩. তেহরানের ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা।
পুতিনের প্রস্তাব ও ক্রেমলিনের অবস্থান
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেও পুতিন যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুতিন আগে থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতা দখলের উস্কানি ‘অমানবিক’।
২০২৫-এর স্মৃতি ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
২০২৫ সালের জুন মাসেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় পুতিন মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও, ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে মস্কোর প্রবেশ বিশ্ব মানচিত্রে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।