পারমাণবিক জেদ না কি আমেরিকার অন্যায্য শর্ত? কেন ভেস্তে গেল ট্রাম্প-ইরান শান্তি আলোচনা? জানুন নেপথ্যের কাহিনী

বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া শান্তির আশা নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ভেস্তে গেল। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই ফের রণক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে পশ্চিম এশিয়া।

বৈঠকে কেন মিলল না সমাধান? মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি

  • আমেরিকার দাবি: ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সবরকম প্রচেষ্টা পাকাপাকিভাবে বন্ধ করতে হবে।

  • ইরানের অনড় অবস্থান: তেহরান এই শর্ত মানতে নারাজ। তাদের দাবি, আমেরিকা অতিরিক্ত ও বেআইনি শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের ক্ষোভ: বৈঠক শেষে কোনো চুক্তি ছাড়াই দ্রুত পাকিস্তান ছাড়েন জেডি ভ্যান্স। যাওয়ার আগে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “এই ব্যর্থতা ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।” অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনার ওপর নজর রাখছিলেন। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক লক্ষ্য থেকে সরতে না চাওয়ায় শান্তি অধরা থেকে গেল।

৪০ দিনের যুদ্ধ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ৪০ দিন চলার পর গত ৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু রবিবারের এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা সেই নাজুক যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবর চাউর হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় হওয়া এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো সুখবর দিতে পারল না। এখন দেখার, ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে কোনো সামরিক অভিযানের পথে হাঁটে কি না।