চিরনিদ্রায় ‘মেলোডি কুইন’ আশা ভোঁসলে! কেন তাঁকে ‘ডন’ বলে খ্যাপাতেন কিশোর কুমার? প্রকাশ্যে এল সেই মিষ্টি লড়াইয়ের গল্প

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। ৯২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন কিংবদন্তি গায়িকা, ‘মেলোডি কুইন’ আশা ভোঁসলে। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আশীষ শেলার এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মহাপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। সোমবার শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।

আশাজির প্রয়াণের এই বিষাদঘন দিনে বারবার ফিরে আসছে স্বর্ণযুগের সেই কালজয়ী জুটি— কিশোর কুমার ও আশা ভোঁসলে। তাঁদের বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক মিষ্টি খুনসুটি আর সংগ্রামের ইতিহাস।

আশা থেকে ‘ডন’ হওয়ার গল্প: এক সাক্ষাৎকারে আশাজি জানিয়েছিলেন, কেরিয়ারের শুরুতে তিনি কিশোরদাকে যমের মতো ভয় পেতেন। ‘মুকাদ্দর’ ছবির একটি গানে ‘এক, দো, তিন’ বলতে গিয়ে মারাঠি টানে আশাজি বলে ফেলেছিলেন ‘দোন’ (মারাঠিতে যার অর্থ দুই)। ব্যস! সেই সুযোগ আর ছাড়েননি কিশোর কুমার। তারপর থেকেই ভালোবেসে খ্যাপানোর জন্য আশাজির নাম দিয়েছিলেন ‘ডন’। পরে যখন আশা পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেন, তখন কিশোরদা হেসে বলেছিলেন— “তুই তো খুব পাকা!” এভাবেই শুরু হয়েছিল তাঁদের কালজয়ী বন্ধুত্বের পথ চলা।

অপমান আর মহালক্ষ্মী স্টেশনের সেই চা-বিস্কুট: আজ যে কণ্ঠ বিশ্ববন্দিত, কেরিয়ারের শুরুতে সেই কণ্ঠকেই বাতিল করে দিয়েছিলেন জনৈক রেকর্ডিস্ট রবিন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালক খেমচাঁদ প্রকাশের উপস্থিতিতেই তিনি সোজাসাপ্টা বলেছিলেন, “এদের দিয়ে হবে না, অন্য শিল্পী ডাকুন।” সেইদিন সেই অপমান বুকে নিয়ে ক্ষুধার্ত আশা ও কিশোর মহালক্ষ্মী স্টেশনে বসে চা-বিস্কুট খেয়ে একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন দুজনেই মহাতারকা, তখন সেই রেকর্ডিস্টকে ক্ষমা করে দিয়ে বড় মনের পরিচয় দিয়েছিলেন আশাজি।

এক বর্ণময় জীবন: মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই কঠিন পথ পেরিয়ে পরে আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে তাঁর সৃজনশীল জুটি ভারতীয় সঙ্গীতকে এক আধুনিক রূপ দিয়েছিল। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘চুরা লিয়া হ্যায়’— হাজারো গানের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

সুরের জাদু হয়তো আজ নীরব হলো, কিন্তু ‘আশা তাই’-এর সেই মখমলি কণ্ঠ চিরকাল সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে।