“যা যুদ্ধে পাননি, তা বৈঠকে পাবেন না!” ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সকে খালি হাতে ফেরাল ইরান, বন্ধই থাকছে হরমুজ

টানা ২১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যারাথন বৈঠক। বিশ্ব তাকিয়ে ছিল এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দিকে। কিন্তু রবিবারের সূর্যোদয় বয়ে আনল ব্যর্থতার খবর। ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আয়োজিত হাই-ভোল্টেজ শান্তি বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতার জন্য একে অপরের ওপর দোষারোপ শুরু করেছে দুই দেশ।

ইরানের কড়া জবাব: বৈঠক শেষে ইরানের সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এবং ঘানার ইরানি দূতাবাস থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিদের ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণেই এই আলোচনা সফল হয়নি। ইরানের দাবি:

  • আমেরিকা এমন কিছু দাবি বৈঠকে পেশ করেছে যা তারা যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করতে পারেনি।

  • ইরানি প্রতিনিধিদল দেশের জাতীয় স্বার্থে কোনো আপস করতে রাজি হয়নি।

  • ঘোষণা করা হয়েছে— হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল খালি হাতেই ফিরছেন।

কী বলছেন জেডি ভ্যান্স? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের কাছে তাঁর হতাশা গোপন করেননি। তিনি বলেন, “খুবই খারাপ খবর, আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, কিন্তু ইরান তা মানেনি।” তাঁর দাবি, আমেরিকা চেয়েছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

কেন এই অচলাবস্থা? আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, মূলত তিনটি বিষয়ে সংঘাত বেঁধেছে: ১. হরমুজ প্রণালী: এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয় ইরান। ২. পারমাণবিক প্রকল্প: ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ছাড়তে নারাজ, অন্যদিকে আমেরিকা একে ‘অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখছে। ৩. শর্ত বনাম জাতীয় স্বার্থ: আমেরিকার দেওয়া একাধিক শর্তকে ‘জাতীয় স্বার্থ বিরোধী’ বলে মনে করছে তেহরান।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী? শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিরে যাওয়ার কথা জানালেও, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।