“এক বৈঠকে মিটমাট আশা করিনি!” ইসলামাবাদে ব্যর্থ আলোচনার পর কেন এমন বললেন ইরানের মুখপাত্র?

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মেটাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এই অমীমাংসিত বৈঠককে পুরোপুরি ‘ব্যর্থ’ তকমা দিতে নারাজ তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কূটনীতি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এবং এক বৈঠকে সব মিটে যাবে— এমনটা তাঁরা শুরু থেকেই আশা করেননি।
বৈঠকের নেপথ্যে কঠিন বাস্তব: ইসমাইল বাঘাইয়ের মতে, গত ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অবিশ্বাসের আবহে এই আলোচনা শুরু হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, প্রথম বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।
আলোচনার মূল বাধা ও সাফল্য:
-
সহমত ও মতপার্থক্য: ইরান জানিয়েছে, বেশ কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালেও দুই-তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর মতভেদ রয়ে গিয়েছে।
-
জটিল বিষয়: হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের মতো নতুন ও জটিল ইস্যুগুলি এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা সমাধান করা সময়সাপেক্ষ।
-
বিপরীতমুখী দাবি: তেহরান সাফ জানিয়েছে, তারা কোনো সাধারণ ‘সমঝোতা’ নয়, বরং নিজেদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছে। এর আগে ওয়াশিংটন যেভাবে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে, তাও মনে করিয়ে দিয়েছে ইরান।
বাজেয়াপ্ত অর্থ নিয়ে ধন্দ: ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছিল যে, আমেরিকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। কাতার বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা ইরানি পুঁজি ছাড়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি।
ভবিষ্যৎ কী? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের এই বৈঠককে আপাতত একটি ‘শুরু’ হিসেবেই দেখছেন কূটনীতিকরা। লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইজরায়েলি হামলা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও, পাকিস্তান এখন ‘জামিনদার’ হিসেবে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে চাইছে। বাঘাইয়ের কথায়, “কূটনীতিকদের দায়িত্ব যুদ্ধ ও শান্তি উভয় সময়েই কাজ করে যাওয়া।”
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন ঝুলে আছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত অলিখিত যুদ্ধবিরতি কতদূর কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।