“আমি সব খবর রাখি, কাকে ফোন করছেন জানি”— ইডি-সিবিআই নিয়ে ‘মোটাভাই’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতার!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে আজ আসানসোল থেকে কার্যত অগ্নিশর্মা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা— প্রতিটি ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বিশেষ করে নিজের সততা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ওদের মতো দোষ করলে গঙ্গায় ডুবতাম।”
বিজেপির ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ: বিজেপির ইস্তাহারে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) প্রতিশ্রুতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর দাবি:
-
দিল্লিতে ভোটের আগে ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা বললেও বিজেপি এক টাকাও দেয়নি।
-
বিহারের মহিলাদের সঙ্গেও বিজেপি প্রতারণা করেছে।
-
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “৮০০০ টাকা দেবেন বলেছিলেন, কিন্তু ভোটের পর সাধারণ মানুষের ওপর বুলডোজার চালান। দেশকে শেষ করেছেন।”
এনআরসি ও ভোটাধিকার ইস্যু: সংখ্যালঘু ও সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “অনেক নাম কেটেছে, চিন্তা করবেন না। ৬০ লক্ষ হিন্দুর নাম কাটা হয়েছে। আমরা কোর্টে লড়েছি এবং লড়াই চালিয়ে যাব যাতে আপনাদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।”
সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ: বিজেপিকে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগে বিঁধে মমতা বলেন, “আমি ছট পুজোয় ছুটি দিই, ঘাটে গিয়ে সূর্য পুজো করি। মোদীজি আপনি কখনও করেছেন? মিথ্যে বলেন। আপনাদের দলের লোক পাঞ্জাবিদের খলিস্তানি বলে। হিন্দু-মুসলিম ভোট ভাগ করে আপনারা সোনার বাংলা গড়তে চান?” প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “উনি তো টেলিপ্রম্পটার দেখে কথা বলেন।”
এজেন্সি ও ফোন কল নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘মোটাভাই’ সম্বোধন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ইডি ও সিবিআই-কে ব্যবহার করে প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “সব প্রার্থী ও মন্ত্রীদের ভয় দেখাচ্ছে। সিট কম থাকলে সমর্থন করো— এই মর্মে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি সব খবর রাখি, কাকে ফোন করছেন তাও জানি।”
আসানসোল ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের জন্য বিজেপি কিছুই করেনি বলে এদিন অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ভোটের আগে মমতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।