কাশ্মীর থেকে বাংলায় এল ‘রণজি’! দাঙ্গা রুখতে সেনার বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবার শহরের রাস্তায়

২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও মজবুত করছে নির্বাচন কমিশন। এবার রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকায় অশান্তি রুখতে সুদূর কাশ্মীর থেকে নিয়ে আসা হল সেনার বিশেষ মিডিয়াম বুলেটপ্রুফ ভেহিকেল (Medium Bulletproof Vehicle)। সাধারণত দেশের সীমান্ত বা অত্যন্ত দাঙ্গাপ্রবণ এলাকায় এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। এবার শহর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাবে এই ‘বিশালাকায়’ সুরক্ষাকবচ।

কেন এই গাড়ি দুষ্কৃতীদের জন্য ত্রাস?

  • সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ: এই গাড়ির বডি এবং কাচ এতটাই শক্তিশালী যে সরাসরি গুলির আঘাতও ভিতরে পৌঁছাতে পারবে না।

  • রান ফ্ল্যাট টায়ার: বিশেষ প্রযুক্তির এই টায়ার ব্যবহার করায় চাকা পাংচার হয়ে গেলেও বা হাওয়া না থাকলেও গাড়িটি দীর্ঘ পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে সক্ষম।

  • হাই-টেক ক্যামেরা: গাড়ির বাইরের পরিস্থিতি নজরদারির জন্য লাগানো আছে অত্যাধুনিক ক্যামেরা। অর্থাৎ, গাড়ির ভিতরে বসেই বাইরে কোথায় কী ঘটছে, তা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন জওয়ানরা।

  • বিশাল ক্ষমতা: এই গাড়ির ভিতরে ১২ জন জওয়ান পূর্ণ রণসজ্জায় বসতে পারেন। দুর্গম রাস্তা বা যে কোনো পরিবেশে এটি চলতে সক্ষম।

ভোটের আগে কমিশনের ‘ফুলপ্রুফ’ প্ল্যান: নির্বাচন কমিশন রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে রাজ্যে কয়েক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। নতুন করে আরও ১৫০ কোম্পানি অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পূর্বের ২৪০০ কোম্পানির সঙ্গে আরও ১৫০ কোম্পানি যুক্ত হওয়ায় মোট বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে আকাশছোঁয়া।

তৎপরতা তুঙ্গে: রাজ্যের জেলাগুলিতে নাকে চেকিং এবং কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কোনো বড়সড় ঝামেলার খবর পেলেই এই বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়ে জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন। কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— ইটবৃষ্টি বা গুলিবর্ষণ, কোনো কিছুতেই বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়া যাবে না।

নির্বাচনের ময়দানে এই প্রথম কাশ্মীরের ধাঁচে এমন অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।