“মুসলমানরা বহিরাগত নয়, এ দেশেরই সন্তান!” ইতিহাস সম্মেলনে কেন এমন দাবি করলেন বিশেষজ্ঞরা?

ভারতের ইতিহাস কি বর্তমান রাজনৈতিক স্বার্থে বদলে ফেলা হচ্ছে? দুই দিনব্যাপী জাতীয় ইতিহাস সম্মেলনে এই প্রশ্নই এখন ঝড়ের গতিতে ঘুরছে। ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এই মেগা কনক্লেভে দেশের বাঘা বাঘা ঐতিহাসিক, বুদ্ধিজীবী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সমবেত হয়েছিলেন। তাঁদের সাফ কথা— ধর্ম নয়, অতীতের যুদ্ধগুলো ছিল স্রেফ ক্ষমতা আর রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই।

বিদ্বেষ ছড়াতে ইতিহাসের বিকৃতি? সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ডঃ রাম পুনিয়ানি। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, গত তিন-চার দশকে ভারতকে বিভক্ত করতে এবং ঘৃণা ছড়াতে বাছাই করা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিকৃতভাবে পেশ করা হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় রাজাদের লড়াই কোনো ধর্মীয় জিহাদ ছিল না, তা ছিল নিছকই সিংহাসন দখলের লড়াই।

‘বহিরাগত’ তকমা নিয়ে কড়া জবাব ভারতীয় মুসলমানদের কি ‘বহিরাগত’ বলা যায়? আব্দুল সালাম পুটগে ডিএনএ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে অত্যন্ত জোরালো যুক্তি পেশ করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলমানরা এই মাটিরই সন্তান। সাম্য ও আধ্যাত্মিকতার টানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সালমান খুরশিদও সুর মিলিয়ে বলেন, আধুনিক ভারত গঠনে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য, যা বারবার জনসমক্ষে আনা জরুরি।

শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যপুস্তকে বদল? সম্মেলনে অধ্যাপিকা অনিতা রামপাল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বাচ্চাদের কী শেখাচ্ছি, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।” অন্যদিকে, অধ্যাপক এস এম আজিজউদ্দিন হুসাইনি এবং ডঃ ইশতিয়াক হুসেন বিজ্ঞান ও দর্শনে মুসলমানদের বিশাল অবদানের কথা তুলে ধরেন। এমনকি মধ্যযুগে অনেক সংস্কৃত গ্রন্থ যে স্থানীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছিল, সেই সহাবস্থানের ইতিহাসও আলোচনায় উঠে আসে।

এক নজরে সম্মেলনের হাইলাইটস:

  • ২০টিরও বেশি গবেষণাপত্র: দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইসলামের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে তাঁদের পেপার জমা দেন।

  • বুক টক: চারটি বিশেষ বই নিয়ে লেখকদের সঙ্গে সরাসরি আড্ডা ও আলোচনা চলে।

  • সংস্কার আন্দোলন: অধ্যাপক সেলিম ইঞ্জিনিয়ার জানান, ভারতের সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে ইসলামিক শিক্ষার বিশাল প্রভাব ছিল।

উপসংহার: সম্মেলনের শেষে উপস্থিত বুদ্ধিজীবীরা একমত হন যে, ইতিহাস হওয়া উচিত পক্ষপাতমুক্ত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক। পূর্বসংস্কার ভুলে গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরাই এখন সময়ের দাবি।